খুঁজুন
, ,

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সজীব ওয়াজেদ জয়—এর শুভ জন্মদিন পালিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১, ৪:৩৩ এএম
স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সজীব ওয়াজেদ জয়—এর শুভ জন্মদিন পালিত

সেবা, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়—এর শুভ জন্মদিন ২৭ জুলাই ২০২১ইং তারিখ নানা আয়োজনে সারা দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রাম ও সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ২৮ বছরে পদার্পণ করেছে সংগঠনটি। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু করে সংগঠনটি। সকাল ৯টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিকাল ৪.৩০ মিনিটে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাচুর্য়ালী সম্পৃক্ত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেন বিশ^ মানবতার জননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা যখন আহবান করেছি, আমরা দেখেছি এই দুঃসময়ে দুর্গত মানুষের পাশে একমাত্র আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই পাশে আছে। সেই ক্ষেত্রে আমরা দেখি আমাদের প্রতিটি সহযোগী সংগঠন ব্যাপকভাবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আরও অনেক দল আছে বাংলাদেশে, দলের তো অভাব নেই! কিন্তু তারা নাকি মানুষকে সাহায্য করে, আমরা টেলিভিশনে মাঝে মাঝে শুনি বা দেখি। কিন্তু দৃশ্যমান মানুষের পাশে দাঁড়ানো বা তাদেরকে প্রকৃতভাবে সহযোগিতা করা। একটা তো ফটোসেশন হয়, সেটা এক জিনিস, আরেকটা হলো সত্যিকারভাবে মানুষের জন্য কাজ করা, সেটা আমাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগ করে যাচ্ছে। সেজন্য আমি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একেবারে রোগীদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়া বা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দেওয়া বা দূগর্ত মানুষের খাদ্য সাহায্য করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মাস্ক দেওয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া থেকে শুরু করে, এমন কোন জায়গা নেই, এমনকি লাশ দাফন কাপন সব ব্যবস্থাতেই আমি দেখি স্বেচ্ছাসেবক লীগ অত্যন্ত চমৎকারভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে পরিবেশ প্রকৃতি রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপনের যখন ঘোষণা দিলাম সেই বৃক্ষরোপনেও যেমন তারা ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপন করছে। সেটা কিন্তু আমাদের এখনও করতে হবে। এই আষাঢ় শ্রাবণ মাস এখনই গাছ লাগানোর সময়, এখন বৃক্ষরোপন করতে হবে। কারণ আমাদের বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য এটা একান্তভাবে জরুরী। এছাড়া যারা গাছ লাগাবেন তাদের জন্য লাভ হয়। সেই সাথে একটা দেশের মানুষের সেবা করার জন্য যে যে কাজ করা দরকার। আমাদের এই সংগঠনটি আন্তরিকতার সাথে করে যাচ্ছে। তাছাড়া আমাদের যত অনুষ্ঠান, যা কিছু হয় সব সময়, আমাদের এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ সবসময় তাদের দায়িত্ব পালন করে। আমাদের কনফারেন্স থেকে শুরু করে সব কিছুতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সেজন্য সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমস্ত সদস্যদেরকে বলব, আমি মনে করি আমাদের প্রত্যেকটি কাজে যেভাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং এটা আমি বলব যে, তোমাদের আরও প্রচার হওয়া দরকার ব্যাপকভাবে। শুধু আমাদের দেশের ভিতরেই না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বা বিভিন্ন জায়গায় এটা প্রচার হওয়া দরকার। কারণ পৃথিবীতে খুব কম দেশ আছে যেখানে এইভাবে দলের নেতাকর্মী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সাহায্য করে। সেটা বাংলাদেশে আমরা করছি। বিশেষ করে আমাদের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলি যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। করোনা ভাইরাসে আমি বলব আমাদের সকলকে নিজের একটু সুরক্ষিত থাকা দরকার, আর ইতিমধ্যে আমরা আমাদের ভ্যাকসিনের ব্যাপারে যেখানে যা পাওয়া যাচ্ছে, আমরা ক্রয় করছি। তার জন্য আলাদা টাকাও রাখা আছে, প্রয়োজনে আরও টাকা আমরা খরচ করব। কিন্তু বাংলাদেশে অন্তত ৮০ ভাগ মানুষ বা অথার্ৎ যারা ভ্যাকসিন নিতে পারে ডঐঙ এর নির্দেশ মোতাবেক তারা সবাই যাতে ভ্যাকসিন নিতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। আর ইতিমধ্যেই আমাদের প্রায় ১ কোটি ৮৭ লক্ষের কাছাকাছি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে গেছে। আর সেই সাথে আমরা আরও ভ্যাকসিন দেওয়াচ্ছি এবং একেবারে গ্রাম পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেখানে সবাইকে শুধু রেজিস্ট্রেশন করতে হবে তা না, তাদের আইডি কার্ড দিয়ে তারা সরাসরি এসে রেজিস্ট্রেশন করে ওখানেই নিতে পারবে। সেই ব্যবস্থা ও আমরা করে দিচ্ছি। এই ক্ষেত্রে আমি বলব স্বেচ্ছাসেবক লীগের ছেলে মেয়ে যে যেখানেই থাকুক মানুষকে একটু সহযোগিতা করা সাহায্য করা সেটা তোমরা অতীতেও করেছো, এটাও করবা, যেন সবাই এই ভ্যাকসিনটা নিতে পারে। কারণ মানুষের মধ্যে একটা আতংক ছিল, ভয় ছিল টিকা নিলে কি হবে টিকা নিলে অনেক কিছু হয়ে যাবে নানা রকমের একটা ভীতি ছিল। এখন সবাই আস্তে আস্তে সেই ভীতি কাটাচ্ছে। একটা সমস্যা এখনও আছে যেটা আমি গ্রামের লোক থেকে খবর পাই। কেউ পরীক্ষা করতে চায় না! টেস্ট করতে চায় না! তাদের ধারণা টেস্ট করলে করোনা আছে সেটা শুনলে সে অসুস্থ হয়ে যাবে, কেউ তার সাথে মিশবে না, এই ভয়ে করে না। কিন্তু এটা ঠিক নয়। টেস্ট করলে তার যে চিকিৎসাটা হবে, সে যে ভাল হবে বা সে অন্য কাউকে সংক্রমিত করবে না, সে নিজে বাঁচবে, অন্যকে বাঁচাবে, এই ধারণাটা মানুষের মধ্যে দিতে হবে। আমাদের যত কর্মী আছে সবাইকে বলে দেওয়া, সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বার্তাটা পেঁৗছে দেওয়া, আর তাছাড়া এখন আমরা যদি ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে পারি তাহলে তো আর কোন চিন্তা নেই। সেটা হলেও বেশি ক্ষতি হবে না, সেভাবে আমার মনে হয় তোমরা যেভাবে মানবতার সেবা, দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছ এটা অব্যাহত রাখ। এটাই মনে রাখবে, যে এটাই হচ্ছে আমাদের আর্দশ, এটাই হল আমাদের জাতির পিতা শিখিয়েছেন। কাজেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তোমাদের সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা স্বেচ্ছাসেবকদের আইডল। তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজিব ওয়াজেদ জয় দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করে স্বেচ্ছাসেবার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সজিব ওয়াজেদ জয় দেশকে এনালগ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। তাঁর দেখানো পথে আজ নতুন প্রজন্ম স্বপ্নের বুনিয়াদ দেখছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জননেতা নির্মল রঞ্জন গুহ ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।

এ সময় “স্বেচ্ছাসেবার ১ বছর” ২০১৯—২০২০ইং শিরোনামে প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। গ্রন্থটির সার্বিক পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিগত ১ বছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নিয়ে ৫ মিনিট ৩১ সে. এর একটি ডকুমেন্টারী প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে জনাব সজিব ওয়াজেদ জয় এর ৫১তম শুভ জন্মদিন ও সংগঠনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন জননেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল আউয়াল শামীম, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ নেতৃবৃন্দ।

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ