বাণিজ্য মেলায় উপচে পড়া ভিড়
নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার হাতছানি নিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিন নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
করোনার দাপটে এ বছর মেলায় স্টল কিছুটা কমেছে। এবারের মেলায় রয়েছে ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্যের স্টল। ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ইরান, তুর্কিসহ আশপাশের দেশগুলো থেকে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। মেলায় সব মিলিয়ে থাকছে প্রায় ২২৫টি স্টল।
এবারের মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে আছে দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া, জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য।
এ ছাড়াও পাবেন স্পোর্ট গুডস, স্যানিটারি ওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি।
মেলার পঞ্চম দিন বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, আগের চেয়ে লোক সমাগম বেড়েছে। পণ্য সামগ্রীর বেচাকেনাও কিছুটা বেড়েছে। তবে মেলার ভেতরে খাবারের দোকানগুলো লোক সমাগম অনেক বেশি। বাইরের চেয়ে খাবারের মূল্যে কিছুটা বেশি হলেও লোকজন তাদের পছন্দের খাবার গুলো ঠিকই খাচ্ছেন। মেলায় চটপটি ফুসকা, চাপ, লুচি, বিরিয়ানী, তেহারিসহ বিভিন্ন রকমের ফাস্ট ফুডের চাহিদা অনেকটা বেশি রয়েছে। তবে খাবারের দাম কিছুটা বেশি থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক দর্শনার্থী খাবার না খেয়ে চলে যেতে দেখা গেছে।
পূর্বাচল রয়েল ফুডের মালিক মোতাহার হোসেন নাদিম বলেন, আগের তুলনায় বেচাকেনা বেড়েছে। তবে দিনে বেলা তেমন বেচাকেনা হয় না। সন্ধ্যার পর বেচাকেনা শুরু হয়। প্রতিদিন মেলা বন্ধের সময় ১ ঘণ্টা বাড়িয়ে দিলে অনেক ভালো হতো।
পূর্বাচল রেস্টুরেন্টের মালিক হাজী আক্তার হোসেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় লোকজন আসতে পারছে না। তাছাড়া দোকান ভাড়া বেশি হওয়ায় আমরা খাবারের দামটা একটু বেশি রাখছি। আশা রাখি সামনের দিনগুলোতে লোক সমাগম ভালো হবে।
মি. বাইট এর দোকানদার জিয়াউর রহমান বলেন, যে পরিমাণ বেচাকেনার টার্গেট ছিল, সে অনুযায়ী বেচাকেনা কম। প্রতিদিন আমাদের অনেক খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে আগের চেয়ে বেচাকেনা বাড়তে শুরু করেছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার বনগ্রাম থেকে আসার দর্শনার্থী মাসুদ চৌধুরী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের আসার জন্য বিআরটিসি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা যারা পুরান ঢাকায় বসবাস করছি তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। তাছাড়া ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে মেলা পর্যন্ত আসার রাস্তাটা অনেক খারাপ। সেজন্য মেলায় আসা যাওয়ায় অনেকটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
রফতানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, মেলায় খাবারের দাম বাইরের চেয়ে একটু বেশি শুনেছি। সেজন্য আমরা প্রতিটি খাদ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে তালিকা তৈরি করে প্রতিটি দোকানে ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা রাখি খুব তাড়াতাড়ি এটা করা হবে।

