খুঁজুন
, ,

বেড়েই চলছে চাল-ডাল-তেলের দাম, চরম বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২, ৮:৫৩ পিএম
বেড়েই চলছে চাল-ডাল-তেলের দাম, চরম বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

করোনায় দেশের অধিকাংশ মানুষের আয় কমেছে। বিপরীতে ওষুধ, সবজি এবং তেল, চাল, ডালসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে।

সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় পণ্য চাল। গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা করে বেড়েছে। আর গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে একই সময়ের তুলনায় কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। চালের পাশাপাশি ডালের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ১০-৩৫ টাকা পর্যন্ত। এই দাম বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এখন বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দাম দিয়ে কিনছি। তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। আর দাম বাড়ায় বিক্রি কমে গেছে। এতে মুনাফাও কমছে বলে জানান তারা।

ভোক্তারা বলছেন, তেল, চাল-ডালসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম ও মধ্য আয়ের মানুষ। অনেকে করোনাকালে কাজ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঋণ করে দিন পার করছেন। কেউবা খেয়ে-না খেয়ে কোনো রকমে দিন পার করছেন।

মঙ্গলবার ( ১ মার্চ) রাজধানীর বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, গুটি স্বর্ণা অর্থাৎ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা কেজিতে। অথচ ২০২১ সালের একই সময়ে এই চালের দাম ছিল ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা।

আজ বাজারে মাঝারি মানের পাইজম যেমন- ২৮ এবং ২৯ নম্বর চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৮ টাকা কেজিতে। এক বছর আগেও এই চাল বিক্রি হতো ৪৫-৪৮ টাকা কেজিতে।

এছাড়াও বাজারে ভালো মিনিকেট চাল খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা কেজিতে। মাঝারি মানের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায়। যা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। এছাড়াও নিম্নমানের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। গত বছর এই চাল সর্বোচ্চ ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

ভালো মানের নাজিরশাইল খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজিতে। মাঝারি মানের নাজির বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা এবং নিম্নমানের নাজির বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজি। গত বছর এই চাল বিক্রি হয়েছিল ৫৮-৬৫ টাকা কেজিতে। অন্যদিকে কাটারি ভোগ ১০০ টাকা এবং চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে।

রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী আনিছুল ইসলাম বলেন, দুই মাস ধরে চালের দাম বাড়তি। গত সপ্তাহে নতুন করে আরেক দফা বেড়েছে। এ বছর কোনো বন্যা হয়নি। তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তারপরও চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার মিতু রাইস এজেন্সির কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, আমাদের যে পরিমাণ ধান প্রয়োজন গত অর্থবছরেও তার কাছাকাছি ধান উৎপাদন হয়েছে। সুতরাং, চালের দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ দেখছি না। তারপরও আমন মৌসুম থেকেই চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এখনো বাড়ছে।

রাজধানীর গুলশানের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের রিসিপশনে কর্মরত রয়েছে আবু জাফর। তিনি মধ্যবাড্ডার পোস্ট অফিস গলিতে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন আট বছর ধরে। করোনার আগের তিনি কিনতেন মিনিকেট চাল। এখন কিনছেন মোটা চাল স্বর্ণা। মধ্যবাড্ডার পাইকারি দোকান থেকে চাল কেনার সময়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মাসের প্রথমেই আমি এক বস্তা করে চাল কিনি। কারণ, চাল থাকলে খালি সাদা ভাত খেয়ে হলেও দিন পার করা যাবে। খিদে মেটানো যায়।

জাফর বলেন, আগে নিতাম চিকন চাল, এখন সেই দামে মোটা চাল কিনি। প্রতিদিন খাবারের সময় দুই ছেলেই চিৎকার-চেঁচামেচি করে। আর বলে এই চালের ভাত খাওয়া যায় না। তখন আমি তাদের বিভিন্নভাবে বুঝাই।

তিনি বলেন, করোনার আগে বেতন পেতাম ২৫ হাজার টাকা। ২০২০ সালে করোনার সময় বেতন ৪ হাজার টাকা কমেছে। এখন বেতন পাই ২১ হাজার টাকা। বাসা ভাড়া দেই ১১ হাজার টাকা। আর বাকি ১০ হাজার টাকা খাওয়া-দাওয়া। দুই ছেলের মাদরাসা ও কলেজের খরচ দিয়ে মাস পার করতে পারছি না। গত এক বছরে সংসার চালাতে আমি ৭৫ হাজার টাকা ঋণ করেছি। এই টাকা কীভাবে পরিশোধ করব সেই চিন্তায় ঘুম আসে না।

পোশাক কারখানার শ্রমিক নাসিমুল হক মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে চাল কেনেন ২ কেজি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বেতন পাই ১৫ হাজার টাকা। বাসা ভাড়া ও খাওয়া-দাওয়ার পর আর কিছুই থাকে না। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা। তাদের খাবারের টাকা দিতে পারছি না। তারা খুব কষ্ট করে চলছে।

তিনি বলেন, গত চার মাসে একদিন মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খাইনি। কীভাবে খাব কন? ৫২ টাকার নিচে কোনো চাল নেই, তেলের কেজি পৌনে দুইশ টাকা, ডালের কেজি দেড়শ টাকা, সবজির কেজি একশ টাকা। কোন জিনিসটা কিনব?

এক বছর আগের অর্থাৎ ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নাজিরশাইল চাল কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মাঝারি মানের পাইজম চাল বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকা। আর দরিদ্র মানুষের খাবারের মোট চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছিল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা।

টিসিবির তথ্য মতে, রাজধানীর বাজারে বড় দানার মসুর ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। ২০২১ সালে একই সময়ে মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৬৫ টাকা ৭০ টাকা।

একইভাবে মাঝারি মানের মুশর ডাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। যা এক বছর আগের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা। আর ছোট দানার ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টকা কেজিতে। যা এক বছর আগে বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে।

মুগ ডাল বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩৫ টাকা কেজিতে। ২০২১ সালের একই সময় যা বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে। এছাড়াও বৃহস্পতিবার এ্যাংকর ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। যা এক বছর আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা দরে। তবে ছোলা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মনে করছে, তেল-চিনি, চাল-ডাল, মাছ-মাংসসহ সব ধরনের পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। যা ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ভোক্তাদের উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। সরকারের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ