খুঁজুন
, ,

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২২ এএম
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে দেশের নানা প্রান্তে পৃথক পৃথক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সবচেয়ে বড় পরিসরে ঈদ উদযাপন হয়েছে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায়। মাদারীপুরে ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এবং শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরীফ কেন্দ্রিক ৩০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে এবং বরগুনা ও পটুয়াখালীতেও হাজারো মানুষ আগাম ঈদ উদযাপন করেন। নিচের জেলার তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো-

মাদারীপুর
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর জেলার ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।

জানা যায়, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।

শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় দরবার শরীফের ঈদগাহ মাঠে পৃথকভাবে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী ও মাওলানা জুলহাস উদ্দিন। প্রায় ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার মুসল্লি এতে অংশ নেন। ১৯২৮ সাল থেকে এ প্রথা চালু রয়েছে বলে জানা যায়। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় দুলদুলের চাতালে অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ।

আয়োজকরা জানান, ২০০৫ সাল থেকে তারা এভাবে ঈদ পালন করে আসছেন। এ বছর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিরা মনে করেন, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই হিসাবেই ঈদ পালন করা উচিত। নামাজ শেষে দোয়া ও কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করা হয়।

নওগাঁ
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় নজিপুর পৌরসভার কলোনিপাড়া গ্রামে এ জামাত হয়। এতে প্রায় ৬০-৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন। ইমামতি করেন মাওলানা কামারুজ্জামান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন এবং এটিকে তারা ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করেন।

বগুড়া
বগুড়ার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় পৃথক স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এসব জামাতে নারী-শিশুসহ দেড় শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু মুসল্লি ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে আগাম ঈদ পালন করেন। পুলিশ জানায়, সব অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলার ৬টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতাদর্শ অনুসরণ করে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ১০০-২০০ জন মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন এবং এটিকে ধর্মীয়ভাবে সঠিক মনে করেন।

নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁ)
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পৃথক জামাতে মুসল্লিরা অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, প্রায় এক দশক ধরে তারা এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন।

মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ সদর ও সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় আনন্দপুর গ্রামে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭ হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয়রা জানান, তারা চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

ফেনী
ফেনীর সদর ও পরশুরাম উপজেলার তিনটি স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কিছু মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকালে পৃথক জামাতে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে শতাধিক পরিবারের অংশগ্রহণে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টায় শহরের একটি বাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষ মুসল্লিরা অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। আয়োজকরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন।

ফরিদপুর
ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১২টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। তিনটি পৃথক জামাতে সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকালে রামগঞ্জে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা বহু বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শশীনাড়া গ্রামে ৪০টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় স্থানীয় মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সাল থেকে তারা এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

শেরপুর
শেরপুরের ৭টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।

পিরোজপুর
পিরোজপুরের তিন উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেছে। বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা বহু বছর ধরে এই প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে দোয়া করা হয়।

রাজশাহী
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সীমিত পরিসরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় ২৩ জন মুসল্লি এতে অংশ নেন। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার প্রায় ২০-২৫টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করছেন। নামাজ শেষে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

বরগুনা
বরগুনার প্রায় অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি বহু বছরের প্রচলিত রীতি। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ পালন করা হয়।

চাঁদপুর
চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। একাধিক জামাতে হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে দোয়া করা হয়।

পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বদরপুর দরবার শরীফে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নিয়ম অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

জামালপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সরিষাবাড়ীর বলারদিয়া মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন আজিম উদ্দিন মাস্টার।

জামাতে প্রায় ৩০০ মুসল্লি অংশ নেন, যেখানে নারীদের উপস্থিতিও ছিল। মুসল্লিরা জানান, তারা চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও দোয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।

রংপুর
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগপুর পূর্ব জলীপাড়া গ্রামে মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে রেখে অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। মাওলানা আব্দুল বাতেন ২০০ পরিবারকে নিয়ে জামাতে ইমামতি করেন। স্থানীয় ও আশপাশের গ্রাম থেকে প্রায় ৩০০ মুসল্লি এতে অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। এলাকার পরিবারগুলো কয়েক দশক ধরে সৌদি সময় অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করে আসছে।

গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ীর কয়েকটি গ্রামে মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পলাশবাড়ীর তালুক ঘোড়াবান্দায় ৩০-৪০ মুসল্লি, সাদুল্লাপুরের ভাতগ্রাম ইউনিয়নে শতাধিক মুসল্লি নামাজে অংশ নেন। দূর-দূরান্ত থেকে ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেলে আসা মুসল্লিরা মোনাজাতের পরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ৪০-৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা মেনে চলছেন।

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ