খুঁজুন
, ,

ঈদে আপনি কোন সিনেমা দেখবেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৫ এএম
ঈদে আপনি কোন সিনেমা দেখবেন?

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানেই ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে পরস্পরকে বুকে টেনে নেওয়ার উজ্জ্বলতম একটি খুশির দিন। চারদিকে শুরু হয়েছে খুশি আর আনন্দের বন্যা। রাত পোহালেই ঘরে ঘরে শুরু হবে ঈদ উৎসব পালনের মহাপ্রস্তুতি ও তোড়জোড়। হাটে, মাঠে, ঘাটে ঈদের খুশিই এখন রঙ ছড়াচ্ছে। ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিনোদন অঙ্গনেও লেগেছে আনন্দের ছোঁয়া। দেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রতি বছর দুই ঈদে একসঙ্গে একাধিক ছবি মুক্তির হিড়িক পড়ে যায়। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদে দর্শকদের আনাগোনাও তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন

এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তির প্রতীক্ষায় থাকা পাঁচটি সিনেমা— ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বাজারে ঈদ মানেই শাকিব খানের একচ্ছত্র আধিপত্যের গল্প; কিন্তু সময় বদলেছে। এখন দর্শকরা কেবল তারকাখ্যাতি দেখে নয়, বরং নির্মাণের মুন্সিয়ানা দেখে হলে ফেরেন। এবারের ঈদের পাঁচটি সিনেমা ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার দর্শকদের আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একদিকে নব্বই দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে ‘প্রিন্স’, অন্যদিকে হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী উপন্যাসের আধারে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। আবার জীবনযুদ্ধের করুণ আখ্যান নিয়ে ‘দম’ আর হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশনের পসরা নিয়ে ‘রাক্ষস’। সবশেষে নাগরিক জীবনের চাপ নিয়ে ‘প্রেশার কুকার’। এই বৈচিত্র্যময়তা নিয়েই সাজানো হয়েছে এবারের ঈদ ক্যালেন্ডার।

প্রিন্স: নব্বই দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ড ও শাকিব ম্যাজিক

আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমাটি নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল বিরাজ করছে। এই সিনেমার গল্পের মূল অনুপ্রেরণা নব্বই দশকের কুখ্যাত গ্যাংস্টার কালা জাহাঙ্গীর। শাকিব খান এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য একটি নতুন মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মেজবাহ উদ্দিন সুমনের গল্প ও চিত্রনাট্যে নির্মিত এই ছবিটি কেবল একটি অ্যাকশন সিনেমা নয়, বরং তৎকালীন ঢাকার রাজনৈতিক ও অপরাধ জগতের এক গভীর দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে।

সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন শিরিন সুলতানা। এর শুটিং লোকেশনে আনা হয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে রয়েছেন তসনিয়া ফারিণ, আর ওপার বাংলার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু যোগ করেছেন ভিন্ন মাত্রা। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, রাশেদ মামুন অপু এবং ড. এজাজ।

বনলতা এক্সপ্রেস: হুমায়ূন সাহিত্যের এক নস্টালজিয়া

পরিচালক তানিম নূর এবার বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের এক অদ্ভুত জাদু থাকে, যেখানে মানুষের সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং নিঃশব্দ যন্ত্রণাগুলো খুব সহজেই দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে যায়। তানিম নূর জানিয়েছেন, তিনি ২০০৭ সালের সেই প্রেক্ষাপটকে বজায় রেখেই ভিজ্যুয়াল বয়ান তৈরি করেছেন।

‘আমি অনেক সংস্থার স্বপ্নের পুরুষ’
সিনেমাটি মূলত একটি ট্রেন যাত্রাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এই সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিমকে একসাথে পর্দায় দেখার সুযোগ মিলবে, যা দর্শকদের জন্য এই ঈদের সবচেয়ে বড় উপহারগুলোর একটি।

আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম এবং শরীফুল রাজের মতো শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীরা এই সিনেমার চরিত্রগুলোকে জীবন দান করেছেন। ট্রেনের সেই চিরচেনা নস্টালজিয়া আর গভীর মানবিক সম্পর্কগুলো নিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শকদের এক অন্য জগতে নিয়ে যাবে বলে নির্মাতাদের বিশ্বাস।

দম: নিশো-চঞ্চল এবং জীবনের চরম পরীক্ষা

রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’ সিনেমাটি এ বছরের অন্যতম আলোচিত প্রজেক্ট। এর প্রধান আকর্ষণ হলো ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো এবং বড় পর্দার নিয়মিত পারফর্মার চঞ্চল চৌধুরীর প্রথমবার বড় পর্দায় একসাথে স্ক্রিন শেয়ার করা। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সারভাইভাল ড্রামাটি একজন সাধারণ মানুষের স্থিতিস্থাপকতা এবং মানসিক শক্তির গল্প বলে।

আফরান নিশো এখানে ‘শাহজাহান ইসলাম নূর’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার জীবনসংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠবে কাজাখস্তানের তুষারশীতল পরিবেশ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের পাবনার গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত। ট্রেলারে দেখা গেছে, নিশোর চরিত্রটি প্রবাসীদের সংগ্রামের পাশাপাশি মানুষের চিরন্তন বেঁচে থাকার আকুতিকে ফুটিয়ে তুলেছে। পূজা চেরি এখানে নিশোর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং জাহিদ হাসানকে দেখা যাবে একটি বিশেষ অতিথি চরিত্রে। সিনেমার নাম ‘দম’ হলেও এর চিত্রনাট্যে যেভাবে রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তগুলো তৈরি করা হয়েছে, তা দর্শকদের শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করবে।

রাক্ষস: ভায়োলেন্স আর স্টাইলিশ অ্যাকশনের নতুন দিগন্ত

নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয় তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘রাক্ষস’ নিয়ে আসছেন এই ঈদে। পরিচালকের দাবি, তার আগের সিনেমা ‘বরবাদ’-এর তুলনায় এখানে তিনগুণ বেশি ভায়োলেন্স বা মারপিট থাকবে। সিয়াম আহমেদকে এখানে একজন দুর্ধর্ষ এবং স্টাইলিশ অপরাধীর চরিত্রে দেখা যাবে, যা তার পূর্বের রোমান্টিক ইমেজের সম্পূর্ণ বিপরীত। এই সিনেমার মাধ্যমে কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়ের ঢালিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে।

এছাড়াও পরিচালক আবরার আতহার অভিনেতা হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করছেন এই প্রজেক্টের মাধ্যমে। শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার মনোরম লোকেশনে সিনেমাটির বড় একটি অংশের দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। সিনেমাটি উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত অপরাধ জগতের দ্বন্দ্ব এবং সেখানে গড়ে ওঠা এক অদ্ভুত প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। সিয়ামের ফার্স্ট লুকে যে রুক্ষতা ফুটে উঠেছে, তা অ্যাকশন প্রিয় দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

প্রেশার কুকার: রায়হান রাফীর নারীকেন্দ্রিক গল্প

বর্তমান সময়ের সফল নির্মাতা রায়হান রাফী ঈদে নিয়ে আসছেন ‘প্রেশার কুকার’। তার প্রতিটি কাজই বক্স অফিসে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে। এবার তিনি বেছে নিয়েছেন নারীকেন্দ্রিক গল্প, যেখানে ঢাকার নাগরিক জীবনের অসহনীয় চাপ এবং চারজন নারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংগ্রামের বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধা চৌধুরী এই চার নারীর ভিন্ন ভিন্ন জীবনের পথচলা এখানে এক বিন্দুতে মিলিত হবে।

সিনেমার বিপণন কৌশলেও রাফী এনেছেন নতুনত্ব। ট্রেলার বা ফার্স্ট লুকের বদলে তিনি প্রকাশ করেছেন ‘ফার্স্ট হুইসল’। নামের মতোই গল্পেও থাকবে এক ধরনের বিস্ফোরণের উপমা। সেন্সর বোর্ড সিনেমাটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের চলচ্চিত্র হিসেবে ছাড়পত্র দিয়েছে, যা এর গল্পের গভীরতা ও বিষয়বস্তুর গাম্ভীর্যকে নির্দেশ করে। সিনেমাটি প্রয়াত কিংবদন্তি পরিচালক তারেক মাসুদকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ