‘মরার আগে নিজের ঘরে ঘুমাতে পারবো ভাবতে পারিনি’
অনলাইন ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় ৫৮টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে।বুধবার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিধাবঞ্চিত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসন করার জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ৫৮টি পরিবারকে দুই শতক জমিতে একটি সেমিপাকা গৃহ নির্মাণ করে ক শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ৬ হাজার ১৪২টি। এরমধ্যে প্রথম পর্যায়, দ্বিতীয় পর্যায়, তৃতীয় পর্যায় ও চতুর্থ পর্যায়ে (১ম ধাপ) মোট ৫ হাজার ৯৫২টি ঘর উদ্বোধন করা হয়। চতুর্থ পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপের ঘরসমূহের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ৫৮টি ও নবীনগর উপজেলার ৫২ টিসহ মোট ৮৪টি ঘর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সদর উপজেলার ৫৮টি ঘরের মধ্যে ক শ্রেণির পরিবারের মধ্যে ২৫ পরিবারকে মজলিশপুর ইউনিয়নের আমিরপাড়ায় এবং ১২টি পরিবারকে মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর গ্রামে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পাশাপাশি চিনাইর গ্রামে ১৯৯৭ সালে নির্মিত লাখুনিয়া দিঘী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যারাকের জীর্ণশীর্ণ ঘরের স্থলে ২১টি একক গৃহ নির্মাণ করে পূর্ব থেকে বসবাসকারী এই পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের আমিরপাড়া গ্রামের দিনমজুর রাসেল মিয়া জানান, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকতাম। ঠিকমতো ঘরভাড়া দিতে পারতাম না। কিন্তু মরার আগে নিজের ঘরে ঘুমাতে পারবো ভাবতে পারিনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম শেখ ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, উপকারভোগীদের নিকট ঘরের চাবি ও দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমাজের মূলধারার মানুষের সঙ্গে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষসহ তৃতীয় লিঙ্গ, ভিক্ষুক, বেদেসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের জন্যও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলায় নির্মিত হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই ঘরগুলো।
এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গণে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভূমি ও গৃহ হস্তান্তর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জিয়াউল হক মীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম শেখ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সেলিম শেখ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।

