পুলিশের ধাওয়ায় পানিতে ঝাঁপ, মাদক ব্যবসায়ী নিখোঁজ
অনলাইন ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে পুলিশ দেখে আবদুল কুদ্দুস সরদার (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী খালের পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিট থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে তার সন্ধান চালাচ্ছে। তবে আজ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর আগে বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চাষিবালিগাঁও এলাকার তালতলা-গৌরগঞ্জ খালে (পদ্মার শাখা নদী) ঝাঁপ দেন কুদ্দুস।আবদুল কুদ্দুস সরদার বালিগাঁও গ্রামের আবদুস ছাত্তার সরদারের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার আগে পুলিশের একটি দল চাষিবালিগাঁও এলাকায় অভিযানে আসে। কুদ্দুস সরদার ও তার এক সঙ্গী সেখানে ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কুদ্দুস ও তার সঙ্গী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের পিছু নেয়। কুদ্দুস পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তালতলা-গৌরগঞ্জ খালের পাড়ে চলে আসেন। পুলিশের হাতে ধরা পড়া থেকে বাঁচতে খালের পানিতে ঝাঁপ দেন। একপাশ থেকে অন্যপাশে সাঁতরে ওঠার সময় তিনি পানিতে তলিয়ে যান।
পুলিশ বলছে, কুদ্দুসের বিরুদ্ধে টঙ্গিবাড়ী থানায় চুরি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে ১৫টি মামলা আছে। মাদক বিক্রির পাশাপাশি কুদ্দুস তার বাড়িতে জুয়ার আসরও বসান। তিনি একাধিকবার কারাগারে গেছেন। জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও মাদক ব্যবসা করেন।কুদ্দুস সরদারের বড় মেয়ের জামাতা আ. আজিজ বলেন, পুলিশ কী কারণে আমার শ্বশুরকে ধাওয়া করেছে তা আমাদের জানা নেই। তবে তিনি পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পড়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধারের কোনো চেষ্টা করেনি এমনকি আমাদের পরিবারকেও বিষয়টি জানায়নি। আমরা তার খোঁজ না পেয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানতে পেরে রাতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিই। সকাল পৌনে আটটার দিকে ডুবুরি দল এসে তার সন্ধান করছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডুবুরি দলের নেতা আবুল খায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল থেকে চারজন ডুবুরি পর্যায়ক্রমে নদীতে নেমে ওই ব্যক্তির খোঁজ করে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলের এক-দেড় কিলোমিটার আশপাশের অংশে খোঁজ করা হচ্ছে।টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব খান গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ অন্য কাজে ওই এলাকায় গেলে পুলিশ দেখে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেয়। তাকে পুলিশ তাড়া করেনি। তিনি পানিতে থেকে অন্য পাড়ের দিকে সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। এমনও হতে পারে, কুদ্দুস সাঁতরে অন্য কোথাও গিয়ে আত্মগোপনে থাকতে পারেন।

