নারীর হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় সংসারে স্বচ্ছলতা
জাগো সংবাদ ডেস্ক : নারীরাও পারে এটার অনন্য উদাহরণ গড়েছেন কাজীপাড়া ও হাতিয়াপাড়ার নারীরা। তারা শুধু পারিবারিক কাজে নিজেদের আটকে না রেখে অবসর সময়ে মোড়া তৈরি করে বাড়তি আয় করছে।
খাগড়াছড়ির জেলা সদর ছাড়িয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরের নিভৃত পল্লী কাজীপাড়া ও হাতিয়াপাড়া গ্রাম। পিছিয়ে পড়া এ জনপদে নেই কোনো ফসলি জমিও। এখানকার বেশিরভাগ মানুষেরই সামাজিক অবস্থান দারিদ্রসীমার নিচে। সেখানেই মোড়া তৈরি করে টেনেটুনে চলা সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছেন নারীরা। নারীদের নিপুণ হাতে বানানো চলে সমতলের বিভিন্ন জেলায়।
নিভৃত পল্লী কাজীপাড়া ও হাতিয়াপাড়া গ্রামের ছোট-বড় সকল নারী এইভাবে সাংসারের কাজ শেষে বাড়তি রোজগারের আশায় মোড়া তৈরি করছেন। এই মোড়া বানিয়ে তারা বাড়তি অর্থ আয় করছেন। এই আয় দিয়ে সংসার এবং ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছেন মহিলারা।
মোড়া তৈরি করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন এসব নারীরা। তাদের পরিবারে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা।
প্রতিটি বাড়ির উঠোনে চোখে পড়বে মোড়া তৈরির কর্মযজ্ঞ। মায়ের সাথে বসে নিপণি হাতের ছোয়ায় বাঁশ-বেতের সমন্বয়ে মোড়া তৈরি করছে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া মেয়েরাও লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে মোড়া তৈরির কাজ করছে।
পাহাড়ী জনপদের কাজীপাড়া-হাতিয়াপাড়ার প্রতিটি বাড়ি হয়ে উঠেছে ছোট ছোট কুটির শিল্প। নারীদের তৈরি মোড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করে থাকেন স্থানীয় পাইকাররা। বিপণন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় প্রায় প্রতিটি ঘরেই বাড়ছে মোড়া তৈরির কাজ।
সপ্তাহে একজন দুই থেকে তিন জোড়া মোড়া তৈরি করতে পারে। আকারভেদে এসব মোড়া প্রতি জোড়া সাড়ে তিনশ টাকা থেকে ছয়শ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। যা থেকে একেকজন সপ্তাহে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা আয় করে থাকেন।
কাজীপাড়া সরেজমিন দেখা গেছে, বাড়ির উঠোনে মোড়া তৈরি করছেন আয়েশা আক্তার। মায়ের সঙ্গে বসে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ-বেতের সমন্বয়ে মোড়া তৈরি করছেন কলেজ পড়ুয়া আঁখি।
আয়শা বেগম জানান, দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে মোড়া তৈরি করছেন। আগে একজনের আয়ে সংসার চলতো। এখন স্বামীর পাশাপাশি তিনিও আয় করছেন। সংসারের খরচের পর বাড়তি টাকা সঞ্চয় করেন। স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখেই আছেন।
শুধু আশয়া,আঁখিই নন, কাজীপাড়া ও হাতিয়াপাড়া গ্রামে বাড়িতে মোড়া বানিয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন আকলিমা বেগম ও আমেনা বেগম জেসমিনসহ আরো অনেকে।
মাটিরাঙার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার আলাউদ্দিন লিটন বলেন, মোড়া তৈরিতে নিয়োজিত নারীরা যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে এটি পাহাড়ের একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে গড়ে উঠবে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজি চক্রবর্তী মোড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে জানিয়ে বলেন,পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতায় ভূমিকা রাখা এসব নারীর প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

