রামগতিতে সম্পত্তির জন্য জন্মদাতা পিতার ওপর বর্বর নির্যাতন; পুলিশ গিয়ে উদ্ধার
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির লোভে জন্মদাতা পিতাকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার দুই ছেলে ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম মিলন মিয়া।
সম্পত্তি লিখে নিতে দীর্ঘদিনের চাপ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলন মিয়ার কাছে থাকা পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নিতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল তার বড় ছেলে সোহাগ, ছোট ছেলে রিয়াজ এবং স্ত্রী পান্না আক্তার। এতে রাজি না হওয়ায় তারা প্রায়ই তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।
কয়েকদিন আগে তারা লাঠিসোটা নিয়ে মিলন মিয়ার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। হামলায় তার হাত ও পা ভেঙে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘পরকীয়া’র অপবাদ দিয়ে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা
অভিযোগ রয়েছে, মারধরের পর মিলন মিয়াকে বাড়ির একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। প্রতিবেশীদের বিভ্রান্ত করতে তার বিরুদ্ধে ‘পরকীয়া’র মিথ্যা অপবাদও ছড়ানো হয়।
“বাবা, আমাকে বাঁচাও”
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তালাবদ্ধ ঘরের ভেতরে আহত অবস্থায় মিলন মিয়াকে দেখতে পান। সাংবাদিকদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন,
“বাবা, তোমরা আমাকে বাঁচাও। ওরা সম্পত্তির জন্য আমাকে মেরে ফেলবে।”
তার এমন আর্তনাদ উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
পুলিশের উদ্ধার অভিযান
বিষয়টি জানানো হলে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে মিলন মিয়াকে উদ্ধার করে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসির বক্তব্য
ওসি লিটন দেওয়ান বলেন,
“খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। জন্মদাতা পিতার ওপর এমন ন্যাক্কারজনক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাজুড়ে ক্ষোভ
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির হোসেন

