খুঁজুন
, ,

বাসদ নেতা কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদের মৃত্যুতে সর্বস্তরের শোক ও শ্রদ্ধা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
বাসদ নেতা কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদের মৃত্যুতে সর্বস্তরের শোক ও শ্রদ্ধা

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক সমন্বয়ক কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদ এর মৃত্যুতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি, বাসদ হবিগঞ্জ জেলা, চুনারুঘাট উপজেলা, সিলেট জেলা ও মৌলভীবাজার জেলার নেতৃবৃন্দ।

কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদ গত ১৬ জুন মঙ্গলবার রাত ২ টায় ঢাকা পিজি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সেগুন বাগিচায় ঢাকা কেন্দ্রীয় অফিস প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হলে সেখানে রাত ৪ টায় তাঁর মৃতদেহ দলীয় লাল পতাকায় আচ্ছাদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তাঁর বিপ্লবী জীবনের কর্ম ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাল সালাম প্রদর্শন করে শেষ বিদায় জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেক আহ্বায়ক কমরেড খালেকুজ্জামান, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, নিখিল দাস, জুলফিকার আলী, অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, আব্দুল কুদ্দুস, জনার্দন দত্ত নান্টু, ডাক্তার মনিষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন প্রমুখ।

১৭ জুন বুধবার বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের গাজীপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং তাঁর বিপ্লবী জীবনের কর্ম ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লাল সালাম প্রদর্শন করে শেষ বিদায় জানিয়েছেন বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড নুরুজ্জামান তরফদার, সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম, বাসদ সিলেট জেলার সমন্বয়ক আবু জাফর, গোলাম কিবরিয়া, বাসদ মৌলভীবাজার জেলার সংগঠক উজ্জ্বল রায়, বিশ্বজিৎ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন, বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সদস্য ফয়সল আহমেদ, অ্যাডভোকেট জুনায়েদ আহমেদ, মোশারফ হোসেন খান শান্ত, আব্দুল মতিন, চৌধুরী ফয়সল আহমেদ সুয়েব, সুনীল রায়, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জিলু মিয়া, প্রকৌশলী সজল রায় চৌধুরী, লুকমান আহমেদ তালুকদার, এ আর সি কাউছার, বাসদ চুনারুঘাট উপজেলার নেতা সাবেক মেম্বার আশ্বব আলী, ওবায়দুল হক চৌধুরী সেলিম, আনোয়ার মিয়া, পারভেজ মিয়া, জসীম উদ্দিন, গাবরু মিয়া, আব্দুল ছত্তার, সিপিবি নেতা আব্দুর রশিদ, আরিফুর রহমান জিতু, আব্দুল সামাদ, আব্দুল ছত্তার, তাহের মিয়া।

উপস্থিত হয়ে আরো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চুনারুঘাটের ১ নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর খান, হুমায়ূন খান এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও প্রয়াত কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদের শত শত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনবৃন্দ।

শোক বার্তা পাঠিয়েছেন তাঁর সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পীযুষ চক্রবর্তী, বাসদ চুনারুঘাট উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার।

এছাড়া গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাসদ নেতা আহমেদ আলী, আলেয়া বেগম, লন্ডন প্রবাসী ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ রানা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাসদ নেতা আবুল কালাম আজাদ, প্রবাসী বাসদ নেতা মামুনুর রশিদ সুয়েল, আক্তার হোসেন অলক, মাহমুদ আহমেদ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুবায়ের আহমেদ, মোস্তফা জামান বাবুল, হুমায়ূন খান প্রমুখ।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদ দলের প্রয়োজনে চুনারুঘাট-মাধবপুর (হবিগঞ্জ-৪) সংসদীয় আসন থেকে ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। স্কুল জীবন থেকেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট তথা বাসদের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হন। তার ধারাবাহিকতায় চুনারুঘাট ও হবিগঞ্জে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য এবং চুনারুঘাট উপজেলা শাখার সদস্য সচিব এর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি চুনারুঘাট ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষক শ্রমিক জনতার ন্যায় সঙ্গত অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। চা শ্রমিকদের সংগঠিত করে দাবি আদায়ের আন্দোলন করেছেন।

বিশেষ করে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের গাজীপুর অঞ্চলের স্থানীয় সমস্যা সংকট নিরসনে সোচ্চার ছিলেন। তিনি যে কোনো অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে নির্ভীক, সাহসী, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং দেশের তেল-গ্যাস, কয়লা, বন্দর, করিডোর রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।

মূলত তিনি পুঁজিবাদী শোষণ ব্যবস্থা ভেঙে কৃষক শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষায় জীবনব্যাপী আন্দোলন করেছেন। তাঁর প্রয়াণে দল একজন নিবেদিত সৈনিক, দৃঢ়চিত্তের লড়াকু নেতা হারাল, এলাকাবাসী হারিয়েছেন একজন অন্যায়ের প্রতিবাদী সাহসী সূর্য সন্তান, পরিবার হারিয়েছে সকল ঝড়ঝাপটা মোকাবেলার শক্ত খুঁটি।

কমরেড মুজিবুর রহমান ফরিদের বিপ্লবী জীবনের স্মৃতি, কর্ম ও আদর্শিক চেতনা আগামী দিনে কৃষক শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শোষণ বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/নাফিজ

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ