মোরেলগঞ্জে স্ত্রীকে ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ প্রবাসী বাছেদ মাঝি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ওমান প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আব্দুল বাছেদ মাঝী সাগর বৈবাহিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। স্ত্রীকে পিত্রালয়ে আটকে রাখা, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ আত্মসাৎ, মামলা তুলে নিতে হুমকি এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে তিনি একাধিক আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত স্ত্রী লিমা আক্তারকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে বাছেদ মাঝী উল্লেখ করেন, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের আমড়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জালাল খানের মেয়ে লিমা আক্তারের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ও ৩ লাখ টাকা উসুল নির্ধারণ করে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
তার দাবি, বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও পরবর্তীতে স্ত্রীর পরিবারের হস্তক্ষেপে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল বেড়ানোর কথা বলে লিমাকে পিত্রালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাকে আর স্বামীর সংসারে ফিরতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ওই সময় বিয়েতে দেওয়া প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার, ঘরে থাকা ৩০ হাজার টাকা নগদ অর্থ, মূল্যবান কাপড়চোপড়সহ আনুমানিক ৮ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বাছেদ মাঝীর ভাষ্য, তিনি একাধিকবার আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রীকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বরং নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৯ মে স্ত্রীকে উদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্ত্রীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পিত্রালয়ে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাকে জোরপূর্বক তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আদালত আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি এবং লিমা আক্তারকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর আরও অভিযোগ, আদালতের নোটিশ জারির পর গত ১ জুন মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ, অপহরণ, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিজের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি ৪ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(সি) ধারায় শান্তি রক্ষার মুচলেকা গ্রহণের আবেদন করেন। তার দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষীও রয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে লিমা আক্তারের মা রানী বেগম বলেন, তাদের মেয়ে স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে আগ্রহী নন। তিনি দাবি করেন, বিয়ের সময় বাছেদ মাঝী কেবল একটি নাকফুল ও কিছু কাপড়চোপড় দিয়েছিলেন এবং সেগুলোও ফেরত দিতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল কাজী অফিসের মাধ্যমে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে বাছেদ মাঝী তা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা করেছেন।
লিমা আক্তারের নানা মো. নজরুল ইসলাম খান দাবি করেন, পারিবারিক অমিলের কারণে তাদের নাতনি সংসার করতে রাজি ছিলেন না এবং নিজ উদ্যোগেই তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন। তিনি বাছেদ মাঝীর বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তিগত অভিযোগও তোলেন।
এ বিষয়ে লিমা আক্তারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/এম পলাশ

