সরকারি সড়ক বাতি তুলে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের অভিযোগ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া এলাকায় সরকারি সড়কে স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের বাতির খুঁটি তুলে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টইটং বাজারের কাছাকাছি সরকারি পানি সরবরাহ প্রকল্পের রাস্তার মাথায় জনসাধারণের চলাচল ও নিরাপত্তার সুবিধার্থে সরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুতের সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, অলি মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ ওই সড়কের জায়গায় থাকা সৌরবাতির খুঁটি তুলে সেখানে দোকান নির্মাণের কাজ করছেন।
এদিকে, অসহায় মানুষের সুবিধার্থে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত একটি সরকারি ওয়াশরুম নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সরকারি সড়কের বাতি তুলে দোকান নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে নুর মোহাম্মদ বলেন, সড়কে বসানো বাতিটি কয়েক মাস ধরে নষ্ট হয়ে অকেজো অবস্থায় ছিল। তাই তিনি সেটি তুলে ফেলেছেন। সরকারি সড়কবাতি তুলে ফেলার অধিকার আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার অধিকার নেই। আমার জায়গা অহেতুকভাবে নষ্ট হচ্ছে, তাই তুলে দোকান তৈরি করছি।”
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত ওয়াশরুমটি কীভাবে তিনি পেয়েছেন—জানতে চাইলে নুর মোহাম্মদ দাবি করেন, “যে জায়গায় সরকারি টয়লেট বসানো হচ্ছে, সেটি আমার জায়গা। সেখানে একটি ছোট ঘর রয়েছে, তবে সেখানে কেউ বসবাস করছেন না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান নির্মাণ কারি নুর মোহাম্মদ সরকারি সড়ক বাতি তুলে দোকান ঘর নির্মাণ করার সাহস নেই, তবে স্থানীয় কিছু সরকারি দলের নেতাদের সাথে তাঁর সু সম্পর্কের কারণেই এই সব অপকর্ম করতে সাহস পেয়েছেন।
সচেতন মহলের দাবি -সরকারি সম্পদ ও সড়কের জায়গা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে জনসাধারণের চলাচল ও সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি জায়গা ও স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি সড়কের জায়গা ও সৌরবাতির খুঁটি অপসারণের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/শহীদুল

