ওবায়দুল কাদের-নাছিমসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর ভরপাশা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মাসুদ খান।
দলীয় নেতাকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মাসুদ খানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের বিভিন্ন দুঃসময়ে তিনি রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মোঃ মাসুদ খান বলেন, “আমি আমার দলের জন্য কাজ করবো। আমার উপজেলা ও বরিশাল জেলা দক্ষিণের আহ্বায়ক জনাব আবুল হোসেন এমপির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও আমাদের এমপি আবুল হোসেন খানের নির্দেশ বাস্তবায়নে কাজ করবো। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করতে পারি—এ জন্য আমি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।”
তিনি বলেন, নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাজশাহীর ভদ্রা থেকে মেহেরচণ্ডি ফ্লাইওভার পর্যন্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ভদ্রা রেলক্রসিং সংলগ্ন মোড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ভদ্রা ও এর আশপাশের এলাকায় বসবাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য তাদের নিয়মিত এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। পাশাপাশি পেশাজীবীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষও প্রতিদিন সড়কটি ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদামাটির সৃষ্টি হয়, ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কার করতে হবে। শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাফিউল আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। বৃষ্টি হলে সড়কটিতে এক হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায় এবং কাদামাটির সৃষ্টি হয়। তখন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করুক।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াইনি। আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি নিরাপদ সড়ক ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের দাবিতে। নিরাপদ সড়ক মানুষের মৌলিক চাহিদার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দিন দিন বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। হয়তো তখন প্রশাসনের টনক নড়বে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নন, এই সড়ক দিয়ে অনেক রোগীও যাতায়াত করেন। তাদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সড়কের সংস্কার চাই।’
মানববন্ধনে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে পঁচা-বাসি খাবার বিক্রি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনটি হোটেলকে মোট ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন খাবার হোটেলে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও এসআরবি যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাজমহল হোটেলকে ৪ লাখ টাকা, নুরজাহান হোটেলকে ৫ লাখ টাকা এবং মোহাম্মদীয়া হোটেলকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে তিনটি প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া পঁচা ও বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়। নুরজাহান হোটেলে খাবার তৈরিতে নিষিদ্ধ কেওড়াজল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।
পরে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ওমর ফারুক বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের অর্থদণ্ড দেন। এর মধ্যে নুরজাহান হোটেলের মালিক সাইফুল আলমকে ৫ লাখ টাকা, রাজমহল হোটেলের মালিক বিষ্ণু বণিককে ৪ লাখ টাকা এবং মোহাম্মদীয়া হোটেলের মালিক নাজমা বেগমকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এসআরবি নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল্লাহ হিল হাকিমসহ সংশ্লিষ্টরা।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী বলেন, “আমরা যৌথভাবে খাবার হোটেলগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছি। পঁচা-বাসি খাবার বিক্রি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন
এই সংবাদের মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।