জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় বিধবা জয়ফল বেগম ও তার মেয়ে স্বপ্না আক্তার খুনের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় মেলান্দহ থানায় নিহত জয়ফল বেগমের ভাই মানিক চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এর আগে শনিবার রাতে নিজ ঘরের পৃথক কক্ষ থেকে ঐ মা-মেয়ের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগে পুলিশ শনিবার রাতে নিহত জয়ফলের ছেলে জহুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত জয়ফলের ভাইয়ের মামলার পর তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ দুজন ছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনার দুই দিন আগে জহুরুল ইসলাম তার মা ও বোনের সঙ্গে বাড়ির জমিজমা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায় জহুরুল ইসলাম বাড়ির জমির মাঝখানে বেড়া দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। এরপর দুই দিন ধরে জয়ফল বেগমের ঘরে তালা দেওয়া ছিল। জয়ফল বেগমের অন্য দুই ছেলে ওমান প্রবাসী হাসানুজ্জামান চৌধুরী ও খালেক চৌধুরী ফোন করে মা-বোনকে পাচ্ছিলেন না। পরে ফোন করে তারা তাদের মামা মানিক চৌধুরীকে বাড়িতে পাঠান। শনিবার সন্ধ্যায় মানিক চৌধুরী ঐ বাড়িতে গিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ঘরের দরজা খুলে ভেতরে পৃথক দুটি কক্ষে জয়ফল বেগম ও তার মেয়ে স্বপ্না আক্তারের গলা কাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
মেলান্দহ থানার ওসি এম এম ময়নুল ইসলাম বলেন, মা-মেয়ের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে তাদের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত জয়ফল বেগমের ভাই মানিক চৌধুরী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। আটক জহুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: Monday, 3 January, 2022 । 5:33 pm