মিরসরাইয়ে প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অভিযোগ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Wednesday, 17 June, 2026 । 9:54 pm

চট্টগ্রামের মিরসরাই বামন সুন্দর ফকির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অনিয়ম গুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা।

অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা, বিদ্যালয় থেকে বেতন উত্তোলন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ । বিদ্যালয় এর খরচ উত্তোলন করে পাওনাদারদের পরিশোধ না করা। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন দাপ্তরিক খরচ পরিশোধ না করা। বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ। জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অফিস সহকারীর নামে ঋণ উত্তোলন ।

এবং সেই ঋণ খেলাপির দায়ে অফিস সহকারীর কারাবরণ । এসএসসি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন এর টাকা আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ফ্যান ও আসবাবপত্র বিক্রয় করে টাকা আত্মসাৎ । বিদ্যালয়ের ১৪ টি ইলেকট্রিক ফ্যান ও পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করা। এছাড়া ডিজিটাল ল্যাবের জন্য সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত ল্যাপটপ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সারজমিনে গিয়ে নাজমুল আলমকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় আছেন জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা তাহেরা খানম জানান প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম দ্বাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম । কিন্তু মিরসরাই উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম কে ফোন করে নাজমুল আলমের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেরদৌস আলম জানান গত এক মাসের মধ্যেও নাজমুল আলম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কোন দাপ্তরিক কাজে উপস্থিত হননি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাজিরা রেজিস্টার খুলে দেখা যায় নাজমুল আলম স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন গত, ১৫ দিন ধরে।

এর আগের মাসগুলোতেও তিনি ছিলেন অনিয়মিত। প্রতিমাসে নিয়েছেন বহু বিভিন্ন খাতে ছুটি। কিন্তু কোন ছুটিরই বিদ্যালয়ে কোন নথি নেই । এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা তাহেরা খাতুন বলেন এটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিষয়। আমরা সহকারী শিক্ষক হয়ে এ ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইতে পারি না।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেশকাত হোসেন চৌধুরী জানান, ২০১১ সালে নাজমুল আলম উক্ত স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি তার ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বিদ্যালয় তেমন একটা সময় দেন না। বিদ্যালয় অনুপস্থিত থেকেও পরবর্তীতে এসে উপস্থিতির স্বাক্ষর করেন। একজন প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকান্ডের কারণে পুরো স্কুলের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

সহকারী শিক্ষক মৃদুল কান্তি মুহুরী জানান, প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার অপ ব্যবহার দেখিয়ে জোরপূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি এনজিও থেকে তার নামে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন নাজমুল আলম। সেই ঋন পরিশোধ না করায় মৃদুল কান্তি মুহুরীর নামে ওয়ারেন্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে কিছু টাকা দিয়ে ওয়ারেন্ট তামিল করা হলেও এখনো বেশিরভাগ টাকা বকেয়া রয়েছে।

শিক্ষক আনোয়ার আশরাফ জানান, প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকান্ড স্থবির হয়ে আছে। বিদ্যালয় এর বিভিন্ন সংস্কার ও মেরামত কর্মকান্ড করানো সম্ভব হচ্ছে না । অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে তিনি জানান বিভিন্ন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে তিনি প্রচুর টাকা ঋন করেছেন। ভুক্তভোগীরা তাকে খোঁজার জন্য স্কুলে আসছেন এবং তাকে অনেক সময় অপমান অপদস্ত করছেন । ফলে মান সম্মান রক্ষায় তিনি স্কুলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।

অফিস সহকারী মাইনুদ্দিন জানান, শিক্ষক মৃদুল কান্তি মুহুরীর পাশাপাশি অফিস সহকারী মাঈনুদ্দিনের নামেও ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। ঋন পরিশোধ না করায় মাইনুদ্দীনকে জেল খাটতে হয়েছে। নিজের জমি বিক্রি করে সেই ঋনের টাকা শোধ করতে হয়েছে অফিস সহকারী মাইনুদ্দিনকে ।

শিক্ষকরা জানান, বিষয়গুলো সুরাহর জন্য কয়েক বছর ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে বারবার অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে হতাশায় ভুগছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ ।

বিষয়গুলো জানার জন্য নাজমুল আলমের ব্যক্তিগত মুঠোপনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

মিরসরাই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম বলেন, এসব সমস্যার সম্পর্কে বিদ্যালয় থেকে কোন প্রকার কোন শিক্ষক অভিযোগ জানায়নি। এখন যে অভিযোগগুলো শোনা যাচ্ছে এগুলোর যথাযথ তদারকি করে বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমন্বয় করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুমাইয়া আক্তার বলেন, উত্থাপিত অভিযোগ গুলোর যথাযথ তদারকি করে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে যথাপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন