স্বর্ণ অক্ষত, মোবাইলের তথ্যেও মিলেনি সূত্র—তদন্তে কি মিলবে আসল রহস্য?

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Monday, 27 July, 2026 । 5:28 pm

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আলোচিত মা ও তিন মেয়ে হত্যা এবং পরবর্তীতে গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিলের প্রস্তুতির খবরের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে কয়েকটি অমীমাংসিত প্রশ্ন।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও নিহত পরিবারের ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ কিংবা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যাওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। এ কারণে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু থেকেই জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিহতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। এ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনার পরপরই নিহতদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত মায়ের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মোবাইলগুলো বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত তদন্তে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।”

পুলিশের এ বক্তব্যের পরও স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, যদি মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার হয়েও থাকে এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সূত্র না পাওয়া যায়, তাহলে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল? ডাকাতির ধারণা যদি সঠিক হয়, তবে ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ অক্ষত থাকার ব্যাখ্যা কী?

বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারকে প্রধান বা একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে দেখিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। যদিও এ বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

এ অবস্থায় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আলোচিত এই পাঁচ প্রাণহানির ঘটনায় সব সম্ভাব্য দিক কি পর্যাপ্তভাবে তদন্ত করা হয়েছে? নাকি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো অনুসন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে?

স্থানীয়দের মতে, বহুল আলোচিত এ মামলায় প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র, হত্যার উদ্দেশ্য, ডিজিটাল আলামত এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা নিশ্চিত হলে জনমনের সংশয় অনেকটাই দূর হবে। তাই ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের আগে তদন্তের সব অমীমাংসিত দিক নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির হোসেন

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন