বদলগাছী এলএসডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: Saturday, 1 August, 2026 । 9:27 am

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত সংবাদে তার বিরুদ্ধে পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরকারি চাল কেনার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ধরনের সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন ওসি এলএসডি মো. আতিকুর রহমান।

মো. আতিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তিনি তার পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাল কিনছেন। এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। খাদ্য বিভাগের চাল সংগ্রহের নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না থাকার কারণেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (ডিসি ফুড) স্থানীয় চালকল মালিকদের সঙ্গে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে চাল কেনার চুক্তি সম্পাদন করে। কোন মিলার কতটুকু চাল সরকারি গুদামে সরবরাহ করবেন, তা চুক্তি ও জেলা খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। এখানে উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী মিলার বাছাই বা চাল কেনার কোনো একক ক্ষমতা নেই।

ওসি এলএসডি আতিকুর রহমান বলেন, “একজন ওসি এলএসডি হিসেবে আমার মূল দায়িত্ব হলো জেলা কার্যালয় থেকে অনুমোদিত ও চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মানের চাল নিয়ম মেনে গ্রহণ করা। আমি সরকারের নির্দেশনা ও দায়িত্ব অনুযায়ীই কাজ করে আসছি।”

তিনি আরও বলেন, খাদ্য বিভাগের চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট চেইন অব কমান্ড ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে উপজেলা খাদ্যগুদামের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এককভাবে পছন্দের মিলারের কাছ থেকে চাল কেনার অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এদিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকটি চালকল নিয়মিত উৎপাদনে নেই বা অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার মতো অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মিল মালিকদের দাবি, এসব বিষয়কে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, সারা বছরই মিলগুলো চালু থাকে; তবে বর্ষাকালে বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণে কোনো কোনো সময় মিলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত রাখতে হয়।পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পাওয়ার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

শেখ চাউল কল এর মালিক ফিরোজ হোসেন বলেন, “সারা বছরই আমাদের মিলগুলো চালু থাকে। তবে বর্ষাকালে কিছু সময় মিল বন্ধ থাকে। আবার শ্রমিক সংকটের কারণে সবসময় প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যায় না। এতে কোনো কোনো সময় উৎপাদন কমে যেতে পারে। এটাকে সরকারি চাল সরবরাহে অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।”

তাদের দাবি, একটি চালকলের উৎপাদন কার্যক্রম আবহাওয়া, ধান সংগ্রহ, শুকানো, পরিবহন ও শ্রমিকের প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব ক্ষেত্রে নানা ধরনের বাস্তব সমস্যা তৈরি হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ে কোনো মিলের উৎপাদন কম থাকা বা সাময়িক বন্ধ থাকাকে কেন্দ্র করে সরকারি চাল সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলে প্রকৃত বাস্তবতা আড়ালে থেকে যেতে পারে।

আতিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, খাদ্য বিভাগের চাল সংগ্রহের এই নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও দায়িত্বের সীমারেখা বিবেচনায় না নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন,“ভুল তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমি এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক সাংবাদিকতার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সর্বসাধারণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ওসি এলএসডির দাবি, সরকারি চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব নির্ধারিত এবং সীমাবদ্ধ। জেলা খাদ্য বিভাগের অনুমোদন ও চুক্তির আওতায় থাকা মিলারদের কাছ থেকেই নিয়ম অনুযায়ী চাল গ্রহণ করা হয়। তাই তাকে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে মিলার নির্বাচন বা চাল কেনার সঙ্গে জড়ানো সঠিক নয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বদলগাছী এলএসডিতে চাল সংগ্রহ নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা চুক্তিপত্র, মিলভিত্তিক বরাদ্দ, চাল গ্রহণের রেজিস্টার, গুণগত মান পরীক্ষার নথি এবং সরকারি সরবরাহের হিসাব যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত। এতে অভিযোগের সত্যতা থাকলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তেমনি নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হলে তারও প্রতিকার হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/জীবন

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন