৯ মাস ধরে ওষুধশূন্য কমলনগরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে গর্ভবতী নারী ও দরিদ্র রোগীরা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Tuesday, 4 August, 2026 । 6:13 pm

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে টানা ৯ মাস ধরে প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ সরবরাহ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও দরিদ্র রোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে ডিডিএস (DDS) কিট না পৌঁছানোয় অধিকাংশ কেন্দ্রের ওষুধের তাক খালি পড়ে রয়েছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ পেলেও রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন জরুরি ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহের কথা থাকলেও গত ৯ মাসে কোনো নতুন ডিডিএস কিট পৌঁছেনি। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো।

স্বাস্থ্য বিভাগের ডিডিএস কিটের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম উইথ ভিটামিন-ডি, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, অ্যালবেনডাজল, প্যারাসিটামল, প্যান্টোপ্রাজল, ডায়াজেপাম, এমোক্সিসিলিন, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, খাবার স্যালাইনসহ প্রায় ২৫ ধরনের জরুরি ওষুধ থাকার কথা। এর মধ্যে গর্ভবতী নারীদের জন্য ১,২০০টি আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট এবং ৪০০টি ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট বরাদ্দ থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ কেন্দ্রেই মাসের পর মাস এসব ওষুধের কোনো সরবরাহ নেই।

কমলনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের মানুষ চিকিৎসার আশায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলেও ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন। অনেকেই আর্থিক সংকটের কারণে বাজার থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক গর্ভবতী নারী বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ভেবেছিলাম রক্তস্বল্পতা ও পুষ্টির ওষুধ বিনামূল্যে পাব। কিন্তু ডাক্তার দেখানোর পর বলা হলো ওষুধ নেই, বাইরে থেকে কিনতে হবে। বাজারে ওষুধের দাম অনেক বেশি, আমাদের মতো পরিবারের পক্ষে নিয়মিত কেনা সম্ভব নয়।”

স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে ওষুধ সরবরাহ না হওয়ায় তারা রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছেন না। চিকিৎসা পরামর্শ দিলেও ওষুধ দিতে না পারায় প্রতিদিন রোগীদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি এসব কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের সংকট চলতে থাকায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তারা অবিলম্বে কমলনগরের সব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ডিডিএস কিট ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির হোসেন

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন