ডেঙ্গু আক্রান্তে বরিশাল বিভাগে শীর্ষে পিরোজপুর জেলা

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Thursday, 13 August, 2026 । 11:50 pm

পিরোজপুরে কমছেই না ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত আট মাসে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১,২৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। ডেঙ্গু আক্রান্তের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পিরোজপুরের পাশের জেলা ঝালকাঠি।

পিরোজপুরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১,২১৭ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ২৩ জন, নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, নেছারাবাদে ১৪ জন, কাউখালীতে ৮ জন, ভান্ডারিয়ায় ১১ জন এবং মঠবাড়িয়ায় ৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ইন্দুরকানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।

গত আট মাসের হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ৫৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে। এ ছাড়াও নাজিরপুরে ৭৮, নেছারাবাদে ২১৬, কাউখালীতে ৯৬, ভান্ডারিয়ায় ২৪২ এবং মঠবাড়িয়ায় ৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের সীমিত জায়গার কারণে ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি অবস্থান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তারা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কক্ষের দাবি জানিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে, পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীরাও একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল কনসালট্যান্ট সুরঞ্জিত সাহা বলেন, এ বছর ডেঙ্গু রোগীর চাপ কমছেই না। আমরা আশা করেছিলাম রোগীর চাপ কিছুটা কমে যাবে, কিন্তু প্রতিনিয়ত রোগী আসছে। একজন রোগী ভর্তি হলে তার চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগে। এর মধ্যে নতুন রোগী আসে, পাশাপাশি অন্যান্য রোগীরাও ভর্তি হচ্ছে। ফলে এখন রোগীর চাপ অনেক বেশি।

তিনি বলেন, আগে আমাদের পাশের জেলা বাগেরহাটের বাদাল এলাকা থেকে বেশিরভাগ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতো। বর্তমানে পিরোজপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকেও রোগী ভর্তি হচ্ছে।

পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলার সিভিল সার্জন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, পিরোজপুর জেলার পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে আইইডিসিআর ইনভেস্টিগেশন টিমের জন্য অনুরোধ করেছিলাম। পরিচালক মহোদয় একটি টিম পাঠিয়েছেন। তারা ইতিমধ্যে একদিন কাজ করেছে, প্রথম দিনের রিপোর্টে তারা আমাকে বলেছে সুপারি গাছের গোড়া ও নারিকেল গাছের গোড়ায় পানি জমা, এবং বিভিন্ন নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ে জমে থাকা পানি থেকে ডেঙ্গু উৎপন্ন হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে জনগণের সচেতনতা কিছুটা কম। তাদের ইনভেস্টিগেশন সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর তারা যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। এ ছাড়া আমরা জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কাজ করছি। যারা ডেঙ্গু রোগী হিসেবে ভর্তি হচ্ছেন, তাদের ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করছি।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/লাভলু

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন