দূষিত হচ্ছে থানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ: রাণীনগরে উদ্ধারকৃত গরু নিয়ে বিপাকে পুলিশ

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: Tuesday, 15 September, 2026 । 7:36 pm

নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতারসহ ৫ টি গরু উদ্ধার করে। প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও গরুর প্রকৃত মালিক খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত চোরদের সাথে গরুর জব্দ তালিকা আদালতে প্রেরণ করা হলেও মালিকানা নির্ধারণের সুষ্ঠ সমাধান না হওয়ায় বিপাক পরেছে রাণীনগর থানা পুলিশ। এরই মাঝে একটি গাভীর বাচ্চা হওয়ায় সবমিলিয়ে গরুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬টি। এই ৬টি গরু খাওয়ানোর ব্যবস্থা এবং রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় থানার অভ্যন্তরে গরুগুলো অবাধ চলাফেরার কারণে দিনদিন পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠছে। থানায় সেবা নিতে আসা মানুষগুলো গরুর প্রসাব আর গোবরের দূর্গন্ধে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরতে হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ১০জুলাই রাতে উপজেলার গোনা দীঘিরপার পশ্চিমপাড়া গ্রামের খোকন সরদারের গোয়াল ঘর থেকে ৩টি গরু চুরি হয়। এঘটনায় খোকন সরদার ১২ জুলাই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৫ জুলাই নাটোর জেলার সিংড়া এলাকা থেকে হাবিবুর রহমান (৪২), ফেরদৌস হোসেন (২৬) ও আসলাম দেওয়ান (৪৩) কে গ্রফতার করা হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ার আদমদীঘি থানার সাহারপুর কামলদাগাছী গ্রামের মৃত- আলাউদ্দীনের ছেলে গোলাম রব্বানী ওরফে রাব্বানী পাখিটার (৩৯) কে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। গোলাম রাব্বানীর দেওয়া তথ্য মতে রাণীনগর থানা, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নওগাঁ, নাটোর জেলার সিংড়া থানা পুলিশ এবং র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ওই রাতেই নাটোর জেলার সিংড়া উপজলার হাট তাজপুর গ্রামের পৌতিত চদ্র হালদারের ছেলে সুজীত চদ্র ওরফে অজিত চদ্র হালদার (৪০) এবং একই উপজেলার বড় বাড়ইহাটি গ্রামের সুমন রাজ বংশির ছেলে সুচন্দন রাজ বংশি ওরফে সজল (২৭) এর বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে এই দুই জনকে গ্রেফতারসহ তাদের বাড়ী থেকে চুরির ৫টি গরু উদ্ধার করা হয়।

এব্যাপারে রাণীনগর থানার মামলা নং ১০ তারিখ ৩০/০৮/২০২৬। তখন থেকে থানা কর্তৃপক্ষ তাদের নির্মাণকৃত গ্যারেজে রাখার ব্যবস্থা করলে পাশেই পুলিশের আবাসিক কোয়াটার থাকায় দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন তারা। সেডে গরু রাখার কারণে তাদের মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন রোদ বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃত আসামী সুজিতের স্ত্রী পপি হালদার জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ আমার বাড়ি ঘেরাও করে স্বামী সুজিতসহ আমার ভাইকে আটক করে। সে সময় পুলিশ বলে এখানে চোরাই গরু রয়েছে বলে আমার নিজের গরুগুলো রাণীনগর থানায় নিয় যায়। পরের দিন আমি গরুগুলো নিতে থানায় গেলে পুলিশ বলে এই মামলায় গরুর জব্দ তালিকা করে গ্রেফতারকৃত আসামিদের কোর্টে চালান করা হয়েছে। এক পর্যায়ে আদালত গরুগুলো নিলামের আদেশ দেয়। বিষয়টি আমি জানতে পেরে আমার নিজের গরু দাবি করে আদালতে একটি আবেদন করলে আদালত ওই নিলাম আদেশ স্থগিত করে। আমি আশাবাদী আদালত আমার এই গরুগুলো আমাকে ফেরত দিবে।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল জানান, আদালতের মাধ্যমে গরুগুলো নিলামের জন্য ৩০ আগষ্ট দিন নির্ধারণ করা হলেও নাটোর জেলার সিংড়া থানার তাজপুর গ্রামের সুমন হালদারের মেয়ে পপি রাণী হালদার নিলাম বন্ধের জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নাম্বার-১ নওগাঁতে দরখাস্ত করেন। এই দরখাস্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এবং আদালত পরর্বতী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিলাম কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। তাই এখন পর্যন্ত গরুগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেখাশোনা করতে হচ্ছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/রায়হান

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন