গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরবরিকালচার (বৃক্ষপালন) শাখার সৌন্দর্যবর্ধন বাজেট ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ খাতে প্রতি বছর সরকারি কোষাগার থেকে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বড় অংশই অনিয়মের মাধ্যমে পকেটস্থ করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরি, দিনমজুরদের কম মজুরি দেওয়া এবং রমনা পার্কের ফল বিক্রির টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে ভাগবাটোয়ারা করাসহ নানা গুরুতর অনিয়মে জর্জরিত এই শাখা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে রয়েছেন আরবরিকালচার গণপূর্ত উপবিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। একাধিকবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ওঠা শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে সরাসরি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মাদ সারওয়ার জাহান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছিল এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যার প্রেক্ষিতে তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বঙ্গভবন বা সচিবালয়ের মতো দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় পদায়ন না করার সুপারিশ করেছিল তৎকালীন তদন্ত কমিটি। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের লিখিত তদবির ও সুপারিশ কাজে লাগিয়ে তিনি বারবার গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দায়িত্ব থেকে সরানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন-সংলগ্ন এলাকায় কাজ করা দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি না দিয়ে তা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১৮০ জন দিনমজুরের সমহারে মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের কম টাকা দেওয়ার অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, রমনা পার্কের শত শত নারিকেল ও কাঁঠাল গাছ থেকে উৎপাদিত ফল নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পার্কের ফল গোপনে বিক্রি করে সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে রমনা পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জোরপূর্বক ছবি তুলে অর্থ দাবি ও ব্ল্যাকমেইল করার জন্য একটি চক্রকে অলিখিত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যার বিনিময়ে কর্মকর্তারা নিয়মিত বখরা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাংকের ঋণখেলাপির মামলা এবং অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি অর্থ লুটপাটের এই উৎসব বন্ধে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ নিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: Friday, 30 October, 2026 । 10:45 am