ফরিদপুরে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘর বিক্রির অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Friday, 30 October, 2026 । 9:06 pm

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কোনো ধরনের নিলাম বা সরকারি বিধিমালা না মেনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা ঘর ভেঙে মালামাল বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার টিটা পানাইল চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খানের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরের সম্পূর্ণ মালামাল কোনো রকম সরকারি নিয়ম, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিক্রি করে দেওয়া হয়। নামমাত্র মূল্যে এসব ঘরের মূল্যবান টিন, ইট ও অন্যান্য কাঠামো বিক্রি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। গত এক সপ্তাহ ধরে ক্রেতারা এসব মালামাল নিজ দায়িত্বে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরের মধ্যে একটির কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এর ইটগুলো নসিমনে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অপর ঘরটির টিনের চালা ও বেড়া ইতিমধ্যে খুলে নেওয়া হয়েছে।

এ সময় ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শিকড়পুর গ্রামের হরেকৃষ্ণ মণ্ডল জানান, তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খানের কাছ থেকে মাত্র ১৫ হাজার টাকায় ঘর দুটির ইট কিনে নিয়েছেন। গত তিন দিন ধরে তিনি এসব ইট ভেঙে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ বিস্ময় প্রকাশ করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুসলিমা বেগম বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খান প্রথমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ঘরগুলো টেন্ডার দেওয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু পরবর্তীতে আর টেন্ডার দেওয়া হয়নি। ঘরের টিনগুলো ভাঙারির কাছে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। বিক্রির সেই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ে সুপারি গাছ লাগিয়েছি।’

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সরওয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি ।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানান, ‘ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/বিপ্লব

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন