ভয়ে পালাচ্ছে ইসরাইলিরা!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: Wednesday, 1 April, 2026 । 9:27 am

নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিতে গড়ে ওঠা ইসরাইল রাষ্ট্র আজ যেন উলটো স্রোতের মুখে। একের পর এক যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা আর ভয়ের ছায়া ক্রমেই ভারী হয়ে উঠছে নাগরিক জীবনে। গাজার পর মধ্যপ্রাচ্যকে অশান্তিতে রেখে নিজেও শান্তিতে নেই ইসরাইল। ইরানের তীব্র হামলায় ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশটিতে। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে দলে দলে দেশ ছাড়ছেন ইসরাইলিরা। চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদসহ সমাজের উচ্চস্তরের মানুষও দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। টাইমস অব ইসরাইল, মিডল ইস্ট আই।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে ইউরোপে পালানোর চেষ্টা করেছেন ইসরাইলিরা। মিসরের সীমান্তবর্তী ছোট শহর তাবা দ্রুতই ইসরাইলি নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিটে পরিণত হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে প্রথম দফা হামলা চালানোর পর থেকেই ইসরাইলিদের দেশ ছাড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তাবা দিয়ে এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন ইসরাইলি দেশ ছেড়েছেন তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে একজন কানাডীয় নাগরিকের ধারণা অনুযায়ী, তাবায় প্রবেশকারী যাত্রীদের প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি এবং বাকিরা ইসরাইলি।

বিমানবন্দর কর্মীদের মতে, ইসরাইলিদের মধ্যে দেশ ছাড়ার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং তাবা থেকে আসা-যাওয়া প্রায় সব ফ্লাইটই পূর্ণ থাকে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৫টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তাবা ক্রসিং পার হয়ে মিসরের সিনাই শহরেও আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। তবে পালানোর সময় সীমান্ত ফি ও হোটেল ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ইসরাইলিদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাবা ক্রসিংয়ে ব্যক্তিপ্রতি পারাপার ফি ৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যানবাহনের পারাপার খরচও ১০ ডলার থেকে বেড়ে ৫০ ডলার হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ সিনাইয়ের হোটেলগুলো ইসরাইলি পর্যটকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ভাড়া নিচ্ছে। এদিকে অনেক ইসরাইলি আবার এক শহর থেকে পালিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন আরেক শহরে। দক্ষিণের শান্ত মরুভূমির শহর মিৎসপে রামনে আশ্রয় নিয়েছেন হাজারো নাগরিক। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৬০০০ মানুষের এই ছোট শহরটিতে সব থেকে কম সাইরেন বেজেছে। এজন্য এটিকে কিছুটা নিরাপদ বলে মনে করছেন ইসরাইলিরা। মিৎসপে রামনের স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান এলিয়া উইন্টার জানিয়েছেন, শহরে প্রায় তিন হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। শহরের মোট জনসংখ্যা ছয় হাজারের কাছাকাছি হলেও হোটেল ও এয়ারবিএনবিসহ বিভিন্ন আবাসনব্যবস্থা পর্যাপ্ত এবং পর্যটক ও আগতদের জন্য প্রস্তুত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে গাজাযুদ্ধ শুরুর পর থেকে উল্লেখযোগ্য হারে ইসরাইল ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে। যাদের মধ্যে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীর মানুষরাও রয়েছেন। এমনটাই উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। গবেষকরা এই প্রবণতাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন, এটি দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও মানবসম্পদে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ ইসরাইল ত্যাগ করেছে অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০ হাজার করে। এটি আগের কয়েক বছরের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। চিকিৎসকদের মধ্যে দেশত্যাগের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই দুই বছরে প্রায় ৯৫০ জন চিকিৎসক দেশ ছেড়েছেন। যদিও কিছু চিকিৎসক পরে ফিরে এসেছেন। বিশেষ করে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সি অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা বেশি। যা দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, দেশত্যাগকারীদের মধ্যে শুধু চিকিৎসকই নয়, পিএইচডিধারী গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, প্রকৌশলী এবং উচ্চআয়ের পেশাজীবীদের সংখ্যাও বেড়েছে। গবেষণাটি সতর্ক করে বলেছে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের অর্থনীতির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন