শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা। চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলনে মুখরিত হয়েছে গ্রামের মাঠ-ঘাট। সোনালি ধানে ভরে উঠেছে কৃষকের স্বপ্ন। মাঠ থেকে ধান কেটে ঘরে তোলার ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ধান কাটার পর একই জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদেও নেমে পড়েছেন তারা। কৃষি বিভাগ স্বল্প মেয়াদি ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, শেরপুরের সদর, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোপা আমন ধানের শোভায় রঙিন হয়ে উঠেছে বিস্তীর্ণ ক্ষেত। এ জেলার মাটি নানা ধরনের ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে স্বল্প মেয়াদি ফসল চাষ করে অতিরিক্ত লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে বন্যা বা বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কৃষকেরা আমনের বাম্পার ফলনের আশায় উজ্জীবিত। ইতোমধ্যে হাইব্রিড ধান—ধানিগোল্ড, তেজগোল্ড, এজেড-৭০০৬ এবং উচ্চ ফলনশীল বিনা ধান-৭, বিনা ধান-১৭, ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৮৭ ও ব্রি ধান-১০৩সহ আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকেরা জানাচ্ছেন, প্রতি ৫ শতাংশ জমিতে প্রায় ৩ মণ করে ধান পাচ্ছেন তারা।
শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের কৃষক আব্বাস আলী, ছমেজ উদ্দিন, রহমত মিয়া ও আকবর আলী জানান, তারা এ বছর ধানিগোল্ড জাতের ধান চাষ করেছেন। এই জাতের ধান অন্যান্য জাতের তুলনায় ১৫–২০ দিন আগে কাটা যায়। ফলনও আশানুরূপ—প্রতি ৫ শতাংশ জমিতে প্রায় ৩ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে।
একই ইউনিয়নের লংগরপাড়া কৃষকেরাও জানান, আগাম ধান কাটার পরই তারা ক্ষেতে সরিষার বীজ বপন করেছেন। পাশাপাশি মূলা, লালশাকসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজিও চাষ শুরু করেছেন। এতে তাদের বাড়তি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও উদ্বৃত্ত জেলাগুলোর মধ্যে সীমান্তবর্তী শেরপুর অন্যতম। চলতি মৌসুমে জেলায় ৯১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।”
শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান আকন্দ বলেন, “এই বছর শ্রীবরদী উপজেলায় ১৭ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। রোগ-পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় কৃষকেরা এবারে খুবই ভালো ফলন পেয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “স্বল্প মেয়াদি ধানের আবাদ বেশি হওয়ায় ধান কাটার পর একই জমিতে সরিষা, আলু ও শাকসবজি চাষ করতে পারছেন কৃষকরা। এতে কৃষকের বাড়তি লাভ নিশ্চিত হবে এবং কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে। বাম্পার ফলনে উচ্ছ্বসিত শ্রীবরদীর কৃষকেরা নতুন ফসলের আশায় তারা আবারও মাঠমুখী হয়ে উঠেছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: Monday, 1 December, 2025 । 4:43 pm