খননের উদ্যোগে খুশি বিল পারের মানুষ

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Tuesday, 12 May, 2026 । 2:59 pm

‎নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ইতিহাস ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যে ভরা এক অনন্য নির্দেশনার নাম রক্তদহ বিল। প্রায় ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই বিলের বেশিরভাগ অংশ নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলায়। আর বাকি অংশ বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলায়। এই বিল প্রায় ৩ মাস পানি থাকে।

ইতিহাসবিদদের অভিমত ১৭ শতাব্দীর শেষের দিকে ফকির মজনু শাহ আদমদীঘি উপজেলার আশপাশের এলাকায় ইংরেজদের দোসর জমিদারদের হাত থেকে প্রজাদের বাঁচানোর তৎপরতা শুরু করেন। সেই সময় প্রজারা জমিদার ও ইংরেজ শাসক দ্বারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ও শারিরীকভাব নির্যাতনের শিকার হতো। সেই সাথে জমির খাজনা পরিশোধ করতে সর্বশান্ত হতো।

এমনভাবে প্রজাদেরকে শাসন করার চুড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছালে ঠিক সেই সময় ১৭৮৬ সালে এই জনপদ অস্ত্রধারী শুন্যাসী ও ফকিরদের সাথে নিয়ে ফকির মজনুশাহ’র আগমন ঘটে। প্রজাদের পক্ষ হয়ে প্রতিবাদের এক পর্যায়ে জমিদার শ্রীকৃষ্ণ চৌধূরী ভয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে গিয়ে ময়মনসিংহ আশ্রয় নেয়। পরে তিনি এদেরকে দমন করার জন্য সেনা নায়ক লেফটেন্যান্ট আইনস্টাইন নর্তত্ব বড় আকারের বাহিনী রক্তদহ বিল প্রেরণ করে মজনুশাহ’র বাহিনীর সঙ্গ প্রচন্ড যুদ্ধ বাধে। সেই সময় অনেক লোক হতাহতের কারণে বিলের পানি রক্তে লাল হয়ে যায়। সেই থেকে এই বিলের নামকরণ করা হয় রক্ত দহ বিল। এই বিল প্রকৃতির ভান্ডারে ভরা। বিশেষ করে নানা জাতের দেশি প্রজাতির মাছের সু-খ্যাতি এখনো দেশজুড়ে। মৎস্য সম্পদের নিরাপদ প্রজনন ও স্বাভাবিক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ এলাকা জুড়ে মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিল দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার কিম্বা খনন কাজ না করায় দিন দিন ভরাট হয়ে তার প্রাণ হারাচ্ছে। অপর দিকে হুমকীর মুখে পড়ছে জীব ও বৈচিত্র। একই সাথে হারিয়ে গেছে বিলের উজানে থাকা প্রায় ২২টির মতো খাল। রক্তদহ বিল এবং খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ায় বিল পারের মানুষ এখন বেজায় খুশি। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বছরে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার অতিরিক্ত ধান কৃষকরা ঘরে উঠাবে এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেই সাথে বদলে যাবে রাণীনগর-আদমদীঘি দুই উপজেলার গ্রামীন অর্থনীতি। এই বিল খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৩৪০ একর এক ফসলি জমি তিন ফসলে রুপান্তরিত হবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিলের সাথে সংযুক্ত এই ২২টি খাল ১২ ফুট গভীর করে পুনঃ খননের প্রস্তাব ইতিমধ্যে করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/মুন্না আহম্মেদ 

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন