রামগঞ্জে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধূর মৃত্যু, মর্গে লাশ রেখে স্বামী উধাও

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Saturday, 27 June, 2026 । 12:35 pm

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সামিয়া আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন দিবাগত রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর লাশ রেখে কৌশলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত সামিয়া আক্তার রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা একই ইউনিয়নের উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন হাফিজ। বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি লেগে ছিল বলে দাবি স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, হাফিজের আরও দুই স্ত্রী রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া নারীদের উত্যক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, গত ১৬ জুন হাফিজ মোল্লা তার বোনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে তিনিই সামিয়াকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জুন দিবাগত রাতে সামিয়ার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত হাফিজ হাসপাতালের মর্গে লাশ রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানাকে অবহিত করলে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনদের দাবি, সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে মারধরের পর বিষপান করানো হয়েছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৬ জুন) এশার নামাজের পর সামিয়ার লাশ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লার দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমার মেয়ের ওপর বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন চালানো হতো। এ ঘটনায় আমি ২৫ জুন রামগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া শেরেবাংলা নগর থানা থেকে নারী মৃত্যুর বিষয়ে একটি চিঠি এসেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির হোসেন

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন