১৭ চিকিৎসকের পদ শূন্য, ৯ চিকিৎসকে প্রতিদিন ৫৫০ রোগীর চাপ—খুঁড়িয়ে চলছে রামগতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: Monday, 24 August, 2026 । 5:59 pm

চিকিৎসক সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে মেডিকেল অফিসারের অনুমোদিত ২৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯ জন চিকিৎসক। অর্থাৎ ১৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। অথচ প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে প্রায় ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে করানো হচ্ছে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি নরমাল ডেলিভারি।

ফলে মাত্র ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। নিয়মিত বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও প্রসূতি সেবা সচল রাখতে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ।

২৬ পদের বিপরীতে চিকিৎসক মাত্র ৯ জন

সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনা নদীবেষ্টিত রামগতি উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সরকারি চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন।

কিন্তু রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে ১৭টি চিকিৎসক পদ শূন্য, অন্যদিকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক রোগীর চাপ—দুই সংকট একসঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে কর্মরত চিকিৎসকদের।

রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদার বলেন, প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে প্রায় ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি নরমাল ডেলিভারি করানো হয়।

তিনি বলেন, “বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। মাত্র ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে এত রোগীর চাপ সামলানো কঠিন। একদিকে চিকিৎসকের স্বল্পতা, অন্যদিকে অস্বাভাবিক রোগীর সংখ্যা—দুই দিক থেকেই আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “৩১ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী থাকলেও চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হয়। সেখানে রোগীর চাপ আরও বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে।”

মাসে ১০০ থেকে ১৫০টি নরমাল ডেলিভারি

শুধু সাধারণ রোগী নয়, প্রসূতি সেবার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য চাপ রয়েছে হাসপাতালটিতে। প্রতি মাসে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি নরমাল ডেলিভারি করানো হচ্ছে। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে নিয়মিত প্রসূতি সেবা চালু রাখতে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

চরাঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও দূরত্বের কারণে অনেক রোগী স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিতে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল। ফলে চিকিৎসক সংকট দেখা দিলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে

চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদার।

তিনি বলেন, দ্রুত কয়েকজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান ভরসা

মেঘনা নদী ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলঘেরা রামগতির সাধারণ মানুষের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি সরকারি চিকিৎসার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নৌপথ ও সড়কপথে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।

স্থানীয়দের মতে, উপজেলার জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং প্রতিদিনের বিপুল রোগীর চাপ বিবেচনায় চিকিৎসকের শূন্য ১৭টি পদ দ্রুত পূরণ করা জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী পদায়ন করা হলে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে।

সব মিলিয়ে অনুমোদিত ২৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে মাত্র ৯ জন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ রোগীর চিকিৎসাসেবা এবং মাসে শতাধিক প্রসূতি সেবা চালিয়ে নিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়েও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা সচল রাখার চেষ্টা করছেন। তবে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ না হলে রামগতির বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির হোসেন

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন