আবজাল দম্পতির হাজার কোটি টাকার সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: Sunday, 6 September, 2026 । 9:10 pm

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা তিন মামলার আসামি আবজাল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে একটি মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হলেও বাকি দুটি মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ফলে ওই দুই মামলার বিচারও শুরু করা সম্ভব হয়নি।

দুদক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আবজাল হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী রুবিনা খানম ছিলেন একই অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার। স্বল্প বেতনের চাকরি করেও এ দম্পতির বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।

দুদকের তদন্তে আবজালের মাসিক বেতন-ভাতা ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে উঠে এসেছে। অথচ তার ও স্ত্রীর নামে রাজধানীর উত্তরায় একাধিক বাড়ি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট এবং বিদেশে সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কে ২০১০ সালে রুবিনা খানমের নামে একটি ভবন কেনা হয় বলে জানা গেছে। ওই ভবনের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন এ দম্পতি। একই সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কেও তাদের আরেকটি ভবন রয়েছে বলে অভিযোগ। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৪টি প্লট ও ফ্ল্যাটের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও তাদের একটি বাড়ি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। রুবিনা খানম বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

অর্থপাচারের অভিযোগ

২০১৯ সালের ২৭ জুন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে আবজাল হোসেন ও রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে দুদক।

একটি মামলায় ২৬৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ১৭৫ টাকা অবৈধভাবে অর্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। অন্য মামলায় ২০ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৩২ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়।

দুদকের উপপরিচালক মো. সাহিদুর রহমান বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে দুদকের তিনটি মামলা রয়েছে। এর একটি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। অন্য দুটি মামলার তদন্ত চলছে।’

কারাগারে আবজাল

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে কারাগারে রয়েছেন আবজাল। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকলেও এখনো সাজাপ্রাপ্ত না হওয়ায় তিনি বিচারাধীন বন্দি হিসেবে রয়েছেন।

কারাগার সূত্রের দাবি, সেলে গল্পগুজব করেই সময় কাটান আবজাল। পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীর সঙ্গে মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। স্বজনরা তার খাবারের জন্য কারাগারের ক্যান্টিনে টাকা জমা দেন বলেও জানা গেছে।

তবে কারাগারে তার কথিত ‘আরাম-আয়েশের’ জীবনযাপনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্য খাতের ব্যবসায়ও সম্পৃক্ততা

ফরিদপুরের বাসিন্দা আবজাল ১৯৯২ সালে তৃতীয় বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সুপারিশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন প্রকল্পে অফিস সহকারী পদে অস্থায়ীভাবে যোগ দেন। ২০০০ সালে প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেন তিনি।

তার স্ত্রী রুবিনা খানম ‘রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে ব্যবসা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, দুদকের পৃথক দুই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন আবজালের আইনজীবী। তার জামিন আবেদনের শুনানির বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সংশ্লিষ্ট আদালতে বক্তব্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আবজাল দম্পতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করা এবং দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত

সম্পাদক: মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আরাফাত আলী ফোন: ০১৮১৩-৫৩৮৩১৯, ০১৬২০-১৯০৮৮৫ ই-মেইল: jagosangbadmedia@gmail.com

প্রিন্ট করুন