খুঁজুন
, ,

শ্যামল বড়ুয়ার বাড়িতে ফের হামলা, আহত ৩

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪, ৪:০৮ পিএম
শ্যামল বড়ুয়ার বাড়িতে ফের হামলা, আহত ৩

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার বাবু শ্যামল বড়ুয়ার বাড়ীতে দ্বিতীয়বার হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছ অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা। এতে বাবু শ্যামল বড়ুয়া, তার স্ত্রী ও মেয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় আনুমানিক ১১:৩০ এর দিকে একদল সশস্ত্র লোক সামনের গেইট ভেঙ্গে জোরপূর্বক বাবু শ্যামল বড়ুয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। ঘটনা চলাকালে বাড়ির ভিতরে শ্যামল বড়ুয়া ও তার স্ত্রী ও মেয়ে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত নিচ্ছিলেন। এক পর্যায় শ্যামল বড়ুয়া দুর্বৃত্তদেরকে নিভৃত করতে আসলে, দুর্বৃত্তরা তাকে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে এবং স্বামীকে বাঁচাতে আসলে শ্যামল বড়ুয়ার স্ত্রী, পপি বড়ুয়াকেও প্রচন্ডভাবে মার ধর করে তারা। এ সময় দুর্বৃত্তরা বাড়ির প্রতিটি রুমে শ্যামল বড়ুয়ার একমাত্র ছেলে পার্থ বড়ুয়াকে খুঁজতে থাকে। শ্যামল বড়ুয়ার মেয়ে পুঁজা বড়ুয়া এক রুমে পালিয়ে থাকলেও তাকে পেয়ে মারধর ও শ্লীতাহানি করতে চেষ্টা করে। শ্যামল বড়ুয়া, পপি বড়ুয়া ও পুঁজা বড়ুয়ার চিৎকারে এলাকার লোকজন জড় হতে থাকলে, দুর্বৃত্তরা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে দ্রুত প্রস্থান করে।পার্থকে দেখা মাত্র গুলি করে হত্যা করার হুমকিও দিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

মাঠ পর্যায়ে গিয়ে জানা যায়, বাবু শ্যামল বড়ুয়ার একজন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি এবং এলাকায় তার বিভিন্ন অবদানের জন্য তিনি বাবু নামে পরিচিত। বাবু শ্যামল বড়ুয়া ও পপি বড়ুয়ার একমাত্র ছেলে, পার্থ বড়ুয়া বর্তমানে ইউকে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ব্যাপক হারে নির্যাতন ও নিপীড়ন হওয়ায় পার্থ বড়ুয়ার বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় এর প্রতিবাদ জানায়। বিশেষ করে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ও লুটপাটের বিরুদ্ধে পার্থ বড়ুয়া সর্বদা লেখালিখি করেন। গত ২৬ আক্টবর ২০২৪ তারিখে পার্থ বড়ুয়া মুসলিমদের দ্বারা সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিলে, এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তিনি দেশে থাকা অবস্থায় ইসলামের নামে দুর্বৃত্তপণার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং বৌদ্ধের সুরক্ষা ও অধিকার বাস্তবায়নে সক্রীয় ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান , শ্যামল বড়ুয়া বৌদ্ধ হওয়ার কারণে এবং তার ছেলে পার্থ বড়ুয়ার সোস্যাল মিডিয়াতে প্রতিবাদ করার জন্য তার পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালী আনোয়ার মোল্যা ও তার লোকদের দ্বারা নিপীড়ণের শিকার হন। এদের নির্যাতনের ভয়ে পার্থ বড়ুয়া ২০২২ সালে ইউকেতে পাড়ি জমান এবং ওখানে বসবাস করছেন। তিনি প্রায়ই মুসলীম সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালিখি করেন এবং এরই জের ধরে গতকাল এই হামলা করা হয় বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, শ্যামল বড়ুয়ার ছেলে পার্থ বড়ুয়া বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়াতে বৌদ্ধ নির্যাতন নিয়ে আনোয়ার মোল্ল্যা ও তার সমার্থক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লেখালিখি করতেন। সাথে সাথে তিনি বিএনপি ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথেও জড়িতছিলেন। পার্থর ফেসবুকের একটা পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে পার্থকে গত ২০২২ সালে একবার একদল দুর্বৃত্ত আক্রমণ করে এবং ধারালো অস্ত্রদিয়ে তাকে অঘাত করে রাস্তায় মৃতু ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পথচারিরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসা দিতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে আবারো তাকে হত্যা করার জন্য দুর্বৃত্তরা জড়ো হতে থাকলে ডাক্তার তাকে দ্রুত ডিসচার্জ করে গোপন স্থানে সরিয়ে নিতে সাহায্য করেন। এর পর শ্যামল বড়ুয়া ছেলে ইন্ডিয়ায় পাঠিয়ে নিজ ছেলে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন।

শ্যামল বড়ুয়ার এক আত্মীয়, ইন্দ্রনীল চৌধুরী জানান, গত ৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আনুমানিক রাত ১০ টার সময় একদল দুর্বৃত্ত শ্যামল বড়ুয়ার বাড়িতে হামলা চালায় এবং বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। গতকাল আনোয়ার মোল্লার সমর্থকগোষ্টি আবারো শ্যামলের বাড়িতে হামলা চালায় এবং হামলার সময় শ্যামল বড়ুয়া, তার স্ত্রী ও মেয়ে হামলাকারীদের হাতে মারাত্মক ভাবে আহত হন। দুর্বৃত্তরা শ্যামল বড়ুয়ার স্ত্রী ও মেয়ের মূল্যবান গহনা সহ অনেক মূল্যবান জিনিস লুটকরে নিয়ে যায় এবং অবশেষে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। জানা গেছে শ্যামল বড়ুয়া, পপি বড়ুয়া ও পুঁজা বড়ুয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকার মুদি দোকানদার রমিজ বেপারীজানান, পার্থ বড়ুয়া ইউকে থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় নানাবিদ পোস্ট করে থাকেন। এতে কিছু চরমপন্থী লোক ক্ষিপ্ত হয়ে পার্থকে খুঁজতে শ্যামল বড়ুয়ার বাড়িতে হানা দেয়া এবং বাড়িটি ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, পার্থ বাড়িতে না থাকায় এ যাত্রায় তিনি বেঁচে গেছেন। অন্যথায় পার্থকে অপ্রত্যাশিত ফলাফল ভোগ করতে হত।

স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলার গিয়াস উদ্দীন জানান, শ্যামল বড়ুয়ার পরিবার সংখালঘু হওয়ায় তারা অনেক বার বিভিন্ন ভাবে অত্যাচারের শিকার হোন। শ্যামল বড়ুয়ার ছেলে পার্থ বড়ুয়ার সংখালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে লেখালিখি করায় অনেক প্রভাবশালী আলিম ওলামাদের সাথে বড় ধরনের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। ফলে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পরবর্তীতে বাংলাদেশে সংখালঘু নির্যাতন বেড়ে যায় এবং ৯ আগস্ট শ্যামল বড়ুয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। পার্থ বড়ুয়ার সোস্যাল মিডিয়ায় লেখালিখি করারা কারণে আবারো গতকাল তাদের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা হয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধি স্থানীয় কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করলে কর্তব্যরত পুলিশ পরিদর্শক এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানান।

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ