খুঁজুন
, ,

রমজানের শেষ ১০ দিন যেসব ইবাদত করতে পারেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২, ৬:৫২ পিএম
রমজানের শেষ ১০ দিন যেসব ইবাদত করতে পারেন

রমজানের শেষ দশ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। এমনিতে রমজান সারা বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আর শেষ দশ দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টা যেন ইবাদত-বন্দেগি ও জিকির-আজকারে কাটে, সে জন্য সদা সতর্ক থাকতে হয়।

এখানে রমজানের শেষ দশদিন ইবাদতে মুখরিত করার কিছু টিপস উল্লেখ করা হলো-

প্রথম টিপস : প্রতি রাতে অন্তত দুই রাকাত তাহাজ্জুদ

দুই রাকাত তাহাজ্জুদে দশ অথবা একশ কিংবা এক হাজার কোরআনের আয়াত তেলাওয়াতের চেষ্টা করুন। আপনার এ তাহাজ্জুদ যদি লাইলাতুল কদরের রজনীতে অধিভুক্ত হয়ে যায়, তাহলে আপনি এক রজনীতেই এক নাগাড়ে ৮৪ বছর ইবাদত করার পুণ্য লাভে ধন্য হবেন। আল্লাহর পছন্দের তালিকায় আপনি হয়ে যাবেন একান্ত অনুগত ইবাদতগুজার বান্দা।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতের সালাতে (তাহাজ্জুদে) দশটি আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম গাফিলদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে না। আর যে ব্যক্তি (রাতের) সালাতে একশত আয়াত পাঠ করবে, তার নাম অনুগত বান্দাদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে। যে ব্যক্তি সলাতে দাঁড়িয়ে এক হাজার আয়াত তেলাওয়াত করবে, তাকে অফুরন্ত পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৩৯৮)

দ্বিতীয় টিপস: প্রতি রাতে তিনবার সুরা ইখলাস পাঠ

আপনার তিনবার সুরা ইখলাস পাঠ যদি কদর রজনীর পরশ পেয়ে যায়, তবে আপনি একটানা ৮৪ বছর প্রত্যেকদিন এক খতম কোরআন পাঠের সওয়াবের অধিকারী হতে থাকবেন। রাসূলের হাদিস-ই তার প্রমাণ। নবিজি (সা.) [একদিন] সাহাবাদের বললেন, তোমরা কি একরাতে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করাকে সাধ্যাতীত মনে করো? সবাই জিজ্ঞেস করলেন, এক রাতে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ কীভাবে পড়বো? তিনি বললেন, ‘“কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ”’ সুরাটি কোরআন মাজিদের এক তৃতীয়াংশের সমান। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৭১)

তৃতীয় টিপস: প্রতি রাতে সুরা বাকারার শেষ কয়েকটি আয়াত

রমজানের শেষ দশ দিনের প্রতি রাতে সুরা বাকারার শেষ কয়েকটি আয়াত পাঠে যত্নবান হোন। অর্থাৎ “لله ما في السماوات وما في الأرض”-থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করুন।

যদি আপনার উক্ত আয়াত পাঠ কদর রাতের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে লাগাতার ৩০ হাজার রাত নির্ঘুম আল্লাহর ইবাদতে কাটালে যে সওয়াব পাওয়া যায়, আপনার আমলনামায় এক রজনীতেই সে সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে। কারণ, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যাক্তি সুরা বাকারার শেষের এ আয়াত দুইটি পড়বে, তা সে রাতে ওই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৬৫)

প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ইবনে হাজার ব্যাখ্যায় লিখেছেন, ‘তার জন্য যথেষ্ট হবে মানে এই দুই আয়াত পাঠ পুরো রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট হবে।’ তবে কেউ কেউ এ হাদিসের ভিন্ন ব্যাখাও দিয়েছেন।

চতুর্থ টিপস: এক টাকা করে সদকা করুন

শেষ দশকের প্রতি দিন এক টাকা করে দান করুন। আপনার দান-দক্ষিণা যদি লাইতুল কদরে পড়ে যায়, তাহলে আপনার আমলনামায় ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন সদকা দানের সওয়াব যুক্ত হতে থাকবে।

৫ম টিপস: প্রতিরাতে ১০০ বার নির্দিষ্ট জিকির করুন

রমজানের শেষ দশ দিনের প্রতি রাতে لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير দোয়াটি পাঠ করুন। আপনার পাঠ যদি কদর রজনীর দেখা পেয়ে যায়, তবে আপনি ৩০ লাখ গোলাম আজাদ করার সওয়াব অর্জন করবেন। আর একটি গোলাম আজাদ করার দরুন জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতির ফায়সালা হয়ে যেতে পারে মর্মে হাদিসের ঘোষণা রয়েছে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম অপর কোনো মুসলিম ক্রীতদাসকে মুক্ত করলে আল্লাহ তার (মুক্ত দাসের) প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বদলে তার (মুক্তিদাতার) প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাবেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৬৯০)

৬ষ্ঠ টিপস: এইভাবে নিম্নোক্ত দোয়াগুলো পড়ুন

প্রতি রাতে প্রথমে “سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ” পড়ুন। এরপর ‘اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي وَاهْدِنِي” -পড়ুন।

যদি আপনার এ পাঠ কদর রজনীতে শামিল হয়ে যায়, তাহলে আপনার হাত ‍দুইটি ৩০ হাজার দিন পর্যন্ত কল্যাণের জোয়ারে ভাসতে থাকবে।

কারণ, নবী (সা.)-এর নিকট একলোক এসে বলল, আমি কোরআন মুখস্থ করতে পারি না। অতএব আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা কোরআনের পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। নবী (সা.) বললেন, তুমি বলো- “সুবাহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।” তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! এটা তো মহা সম্মানিত আল্লাহর জন্য, আমার জন্য কি? নাবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি বলো: “আল্লাহুম্মা ইরহামানী, ওয়ারযুক্বনী, ওয়া ‘আফিনী ওয়াহদিনী।” বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি ওগুলো হাতের অঙ্গুলিতে গণনা করল। তখন নবী (সা.) বললেন, এই লোক তার হাতকে উত্তম বস্তু দ্বারা পরিপূর্ণ করেছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৮৩২)

৭ম টিপস: “اللهم اغفر للمؤمنين والمؤمنات” দোয়াটি পড়ুন

আপনার এই দোয়া পড়াটা যদি লাইলাতুল কদরে হয়ে যায়, তাহলে আপনি একবার পাঠে ৬০ বিলিয়ন (৬-এর পর ১৩টি শূন্য বসালে ৬০ বিলিয়ন হয়) সওয়াব পেয়ে যাবেন। কারণ, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মুমিন ব্যক্তি অন্যান্য মুমিন নারী-পুরুষের জন্য দোয়া করবে, সে পৃথিবীর সকল মুমিন নারী ও পুরুষের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব পাবে।’ (আলবানি রহ. হাদিস টিকে সহিহ বলেছেন।)

উল্লেখ্য: পৃথিবীতে বর্তমানে ২.৫ বিলিয়ন মুসলিম রয়েছে। উল্লিখিত দোয়া একবার পাঠ করলে ২.৫ বিলিয়ন সওয়াব পেয়ে যাবেন। আর কদরের রাতে পাঠ করলে ৬০ বিলিয়ন সওয়াব মিলবে।

৮ম টিপস : ১০০ বার “سبحان الله” পাঠ করুন

যদি তা কদর রজনীর সাক্ষাত পেয়ে যায়, তাহলে আপনার আমলনামায় ৩০ মিলিয়ন সওয়াব লেখা হবে অথবা ত্রিশ মিলিয়ন গুনাহ মোচন করা হবে। কারণ, রাসুল (সা.) বলেছেন-“তোমাদের মধ্যে কি প্রতিদিন একহাজার পূণ্য কামাই করা অসাধ্য মনে করে এমন কেউ আছে? উপস্থিত একজন প্রশ্ন করলেন-প্রতিদিন একহাজার পুণ্য কীভাবে লাভ করা সম্ভব? তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘একশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করবে, তাহলে আমলনামায় একহাজার পূণ্য যোগ করা হবে অথবা একহাজার গুণাহ মোচন করা হবে।”(মুসলিম)

৯ম টিপস: “سبحان الله العظيم وبحمده” -পাঠ করুন। এ পাঠ কদরের রজনীতে হলে, আপনার জন্য জান্নাতে তিন মিলিয়ন খেজুরগাছ রোপন করা হবে। কারণ, রাসুল (সা.) বলেছেন-“যে ব্যক্তি একবার “سبحان الله العظيم وبحمده” -পাঠ করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি খেজুর গাছ রূপন করা হবে।” (আলবানি উক্ত হাদিসকে সহিহ বলে আখ্যা দিয়েছেন)

১০ম টিপস: ১০০ বার দরুদ পাঠ করুন

যদি তা লাইলাতুল কদরে প্রবিষ্ট হয়ে যায়, তবে আপনি রাজাধিরাজ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ৩ মিলিয়ন রহমত প্রাপ্ত হবেন।
কারণ, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত করবেন।’

হাদিসে ব্যবহৃত -“صلاة” শব্দের ব্যাখ্যায় ইমাম শাওকানি (রহ.) লিখেছেন, ‘এখানে সালাত অর্থ রহমত। অর্থাৎ আল্লাহ তার বান্দাদের উপর বারবার রহমত করবেন; ফলে তার রহমতের সংখ্যা ১০-এ পৌঁছবে।’

১১তম টিপস: ১০০ বার “لا حول ولا قوة إلا بالله” -পড়ুন।

যদি তা শবে কদরে স্থান পায়, তাহলে আপনার জন্য জান্নাতে ৩ মিলিয়ন ধনভান্ডার গচ্ছিত রাখা হবে। কারণ, রাসুল (সা.) বলেছেন- “আমি কি তোমাদের এমন কালিমা বাতলে দেব না, যেটার বিনিময়ে জান্নাতে একটা ধনভান্ডার অর্জিত হয়? তা হলো- “لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰه ”
(সহিহ বুখারি)

১২তম টিপস:

سبحان اللهِ عدَدَ ما خلق*
*سبحان اللهِ مِلْءَ ما خلَق*
*سبحان اللهِ عدَدَ ما في الأرضِ والسماءِ*
*سبحان اللهِ مِلْءَ ما في الأرضِ والسماءِ**
*سبحان اللهِ عدَدَ ما أحصى كتابُه*
*سبحان اللهِ مِلْءَ ما أحصى كتابُه*
*سبحان الله ِعددَ كلِّ شيءٍ*
*سبحانَ اللهِ مِلْءَ كلِّ شيءٍ*
*الحمدُ للهِ عددَ ما خلق*
*الحمدُ لله مِلْءَ ماخلَق*
*الحمدُ لله عدَدَ ما في الأرضِ والسماءِ*
*الحمدُ لله مِلْءَ ما في الأرضِ والسماءِ*
*الحمدُ للهِ عدَدَ ما أحصى كتابُه*
*والحمدُ لله مِلْءَ ما أحصى كتابُه*
*والحمدُ للهِ عدَدَ كلِّ شيءٍ*
*والحمدُ للهِ مِلْءَ كلِّ شيء.

উল্লিখিত দোয়াগুলো প্রতিদিন ১০০ বার করে পাঠ করুন। যদি তা লাইলাতুল কদরে পড়ে, তবে ৩০ হাজার পুরো দিন-রাতের জিকির করার চাইতেও তা হবে আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ জিকির।

হে আল্লাহ! আমাদের কামিয়াব করুন। আপনার জিকর, শোকর এবং উত্তমরূপে ইবাদত করার সামর্থ্য দান করুন। আল্লাহ! আপনি আমাদের তাদের মতো করে দিন, যারা আপনার কল্যাণকে কল্যাণ বুঝে নিয়েছে; ফলে আপনি তাদের সম্মানিত করেছেন।

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ