খুঁজুন
, ,

যেখানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
যেখানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৩ মার্চ) ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বৈঠক বা সংলাপের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।

তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে এই সংঘাত বন্ধে নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক, রাশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: কোথায় হতে পারে শান্তি আলোচনা বা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য বৈঠক।

কাঙ্খিত ও প্রত্যাশিত সেই ভেন্যু নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। গত ফেব্রুয়ারিতে উপসাগরীয় দেশ ওমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকাবস্থায়ই ইরানে আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে মাস্কাটকে আর সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করছে না কোনো পক্ষ।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া পাকিস্তান এখন ইরান এবং তার শত্রু রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি স্থাপনে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়ার চেষ্টা করছে।

ইসলামাবাদ এই কাজে তাদের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তেহরানের সুসম্পর্ক এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদ ইরানে হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে অত্যন্ত সতর্ক কূটনীতি অনুসরণ করছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদের নাম প্রস্তাব করেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রোববার (২২ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। শরিফ ও পেজেশকিয়ানের এই ফোনালাপটি ঠিক তখনই হলো যখন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ করার হুমকি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ভালো এবং ফলপ্রসূ’ আলোচনার পর তিনি তার হুমকি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও ইরান এই আলোচনার দাবি অস্বীকার করেছে, তবে তারা স্বীকার করেছে যে কিছু আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জড়িত রয়েছে।

গত কয়েক দিনে কিছু বন্ধুরাষ্ট্রের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সম্বলিত বার্তা পাওয়া গেছে। আমাদের দেশের মৌলিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে [সেই উদ্যোগগুলোর] যথাযথ উত্তর দেওয়া হয়েছে,’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাকে এ কথা জানান।

মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন যে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বা যুদ্ধ শেষ করার শর্তের বিষয়ে ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এম.বি. গালিবাফও বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে চোরাবালিতে আটকে আছে তা থেকে বাঁচতে ‘ফেক নিউজ’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রচেষ্টা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তেহরান এবং ট্রাম্পের দূত উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মধ্যে নেপথ্যে আলোচনার সুযোগ করে দিচ্ছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) তাদের কথোপকথনের সারসংক্ষেপে পাকিস্তান জানায়, ইরানি প্রেসিডেন্টের কাছে পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, শান্তি স্থাপনে পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে রিয়াদে এক বৈঠকে আরব সমকক্ষদের জানিয়েছেন যে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে, তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একজন কূটনীতিক বলেছেন যে, পাকিস্তান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।

পাকিস্তানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি নেই এবং এটি এই অঞ্চলের সেই অল্পসংখ্যক মার্কিন মিত্রদের একটি যারা তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রেহাই পেয়েছে। বিষয়টি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ সালিশকারী হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থান শক্ত করতে সাহায্য করেছে।

এছাড়া ইরানের পর পাকিস্তানেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে (যার মধ্যে গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অন্তর্ভুক্ত)। গত সপ্তাহে ইরানি নববর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে বলেন যে, পাকিস্তানের জনগণের প্রতি তার বিশেষ অনুভূতি রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অন্যান্য পক্ষ
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানের পাওয়ার গ্রিডে হামলার হুমকি স্থগিত করার পোস্টের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা না হলেও মিশর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদান করছে।

তুরস্কও যুদ্ধের আগে থেকেই মধ্যস্থতার চেষ্টায় জড়িত ছিল এবং একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইরানি কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে কথা বলছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প শিবিরের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের এই আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। শান্তি প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট আইএএনএসকে বলেন, এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো আলোচনা করবে না।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কম
যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালে বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা যেকোনো মধ্যস্থতার সাফল্যের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে’ জানিয়েছেন যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের বার্তা আদান-প্রদান, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়।

চ্যাথাম হাউস থিংক ট্যাঙ্কের সানাম ভাকিল বলেন, বেশ কিছু দেশ সংঘাত প্রশমনে ‘আপ্রাণ চেষ্টা’ করছে, তবে ‘আমি একে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সংকেত হিসেবে দেখছি না।’

ভাকিল মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের কারণে ট্রাম্প তার হুমকি থেকে পিছিয়ে আসতে পারেন। কারণ, ইরান হুমকি দিয়েছে যে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনো হামলা হলে তারা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তিনি আরো যোগ করেন, উভয় পক্ষই হয়তো সমঝোতা ও চুক্তির রূপরেখা নিয়ে ভাবছে, তবে কারো মধ্যেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আমি দেখছি না। ইরানও নতি স্বীকার করবে বলে মনে হয় না, কারণ তারা মনে করছে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এটি তাদের টিকে থাকার লড়াই।

সাধারণত ওমান এবং কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে থাকে। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, জেনেভায় ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানি কর্মকর্তাদের আলোচনার দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় কোনো গতি আসেনি।

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ