বন্যায় কক্সবাজারে ১২ জনের মৃত্যু, ক্ষতি ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা
অনলাইন ডেস্ক : কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পেকুয়া ও চকরিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে ভেসে যাওয়া চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়া সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বিষক্রিয়ায় দুই ভাই ও তাদের বাবারও মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বন্যায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) বিভীষণ কান্তি দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে, কক্সবাজারে ৬০ ইউনিয়নে ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ফেরাসিংগাপাড়ায় তিন শিশু ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। একই দিন সন্ধ্যায় তারা বাড়িতে ফেরার পথে সাহেবখালীনামক খালে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়। পরে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত খালের পানিতে খোঁজাখুঁজির পরও তাদের পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তাদের মরদেহ ভেসে ওঠে। এ ছাড়া চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীত বন্যায় ভেসে যাওয়া অজ্ঞাত একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহতরা হলেন, ফেরাসিংগাপাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে (৯) ও মেয়ে (৭) এবং তাদেরই আত্মীয় ছাবের আহমদের মেয়ে (৮)।এদিকে বুধবার (৯ আগস্ট) রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়া সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বিষক্রিয়ায় দুই ভাই ও তাদের বাবারও মৃত্যু হয়েছে।নিহতরা হলেন, চকরিয়ার বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দারকাটা এলাকার আনোয়ার হোসেনে (৭৮), তার দুই ছেলে শাহাদাত হোসেন (৫০) ও শহীদুল ইসলাম (২২)।
স্থানীয়রা জানান, টানা ভারী বর্ষণে চকরিয়া উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বহদ্দারকাটা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের বসতভিটাও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এ সময় তার বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে পানি ঢুকে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ কারণে বুধবার রাতে বসতভিটা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে সেপটিক ট্যাংকটি পরিষ্কার করতে নামেন। এ সময় গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ট্যাংকের ভেতরে তারা অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাদের উদ্ধার করতে নেমে তাদের বাবাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেল চিকিৎসক দুই ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের বাবাও মারা যান।
ওসি জাবেদ মাহমুদ জানান, বুধবার রাতে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার সময় দুই ভাই ও তাদের বাবা অজ্ঞান হয়ে যান। পরে দুই ভাই চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মূলত বিষাক্ত গ্যাস থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বন্যায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) বিভীষণ কান্তি দাশ জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ৬০ ইউনিয়নে ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভূমিধস ও ডুবে ১২ জন মারা গেছেন।

