এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও সাংবাদিকতা করেন বেলায়েত; হয়েছেন পত্রিকার সম্পাদক
নওগাঁয় রাণীনগর মহিলা কলেজে আইসিটি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন বেলায়েত হোসেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে বেতনভাতা তুলছেন নিয়মিত। তার বিরুদ্ধে এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে সাধারন সম্পাদক হিসেবে। প্রভাব খাটিয়ে হয়েছেন “বরেন্দ্র কন্ঠ” নামে এক স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক। কাজ করছেন স্যাটেলাইট টেলিভিশন “বাংলা ভিশন”-এ।
বিষয়টি নিয়ে খোদ বিব্রত রাণীনগর মহিলা কলেজ প্রশাসন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রভাবশালী সাংবাদিক হওয়ায় বেলায়েত হোসেন কলেজে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। বিষয়টি নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করেন। কাগজে কলমে আইসিটি শিক্ষক হলেও পুরো কলেজে অধ্যক্ষের চেয়েও বেশি ক্ষমতা প্রদর্শন করেন বেলায়েত।
এদিকে রোববার (৭ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। এ নীতিমালার ১১.১৭-এর ‘ক’ ধারায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক কোনো পদে/চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবে না। এটি তদন্তে প্রমাণিত হলে সরকার তার এমপিও বাতিলসহ দায়ী ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
‘খ’ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ‘আর্থিক লাভজনক’ পদ বলতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো ধরনের বেতন/ভাতা/সম্মানী এবং বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান/সংস্থায়/বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান/সাংবাদিকতা/আইন পেশায় কর্মের বিনিময়ে বেতন/ভাতা/সম্মানীকে বোঝাবে।
অর্থাৎ নতুন এমপিও নীতিমালায় শিক্ষকদের ‘আর্থিক লাভজনক’ কোনো পেশায় জড়িত থাকা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এতোদিন মফস্বলে সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত থাকার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে সেটি এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর মাধ্যমে বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।
এরপরেও সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে সাংবাদিকতা করছেন? জানতে চাইলে রাণীনগর মহিলা কলেজের আইসিটি শিক্ষক বেলায়েত হোসেন মুঠোফোনে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে হলে প্রতিবেদককে তার সাংবাদিকতার স্থানীয় অফিস শহরের তাজের মোড়ে গিয়ে দেখা করতে বলেন।
সার্বিক বিষয়ে কথা হলে রাণীনগর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ হোসেন বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী বেলায়েত হোসেন শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করতে পারবেন না। নীতিমালার কপি এখনো অফিসিয়ালি হাতে আসেনি। আসলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে।
নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি যারা অবৈধভাবে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন তাদের তথ্য ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বেলায়েত হোসেনের নামও থাকার কথা। যদি বাদ পড়ে থাকেন তা ক্ষতিয়ে দেখে আবারো পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স। দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে।
জাগো সংবাদ /আরাফাত

