এক সিদ্ধান্তেই অনিশ্চিত ৫১ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা, সমন্বয়ের অভাব এবং সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির ৫১ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ করতে না পারায় আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টেস্ট পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের চলতি বছর ফরম পূরণের সুযোগ দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে পূর্ববর্তী বছরগুলোতে বিশেষ বিবেচনায় এসব শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ সময় ছিল ১৭ জানুয়ারি। অভিযোগ রয়েছে, সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ৫১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ থেকে বঞ্চিত হয় এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
অভিভাবকদের ক্ষোভ
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের ভাষ্য,
“বিদ্যালয়ের অবহেলা ও সিদ্ধান্তহীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের সন্তানদের। সময় থাকতে ব্যবস্থা নিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। একটি বছর নষ্ট হলে এর দায় কে নেবে?”
তাদের দাবি, হঠাৎ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলা অমানবিক।
বিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর শিক্ষকদের এক সভায় রেজুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন,
“অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে তাঁর নির্দেশে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে ৩৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু সরকারি ছুটি ও অন্যান্য কারণে ফরম ফিলাপের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। বোর্ড সময় বাড়ালে তাদের ফরম পূরণ করা সম্ভব হবে।”
প্রশাসনের অবস্থান
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার বলেন,
“শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বোর্ডের অনুমতি ও সময় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উঠছে প্রশ্ন
অভিভাবকদের প্রশ্ন, পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ফরম ফিলাপের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কেন উদ্যোগ নেওয়া হলো না? প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়ার দায় কে নেবে—এ নিয়েও এলাকায় আলোচনা চলছে।
মানবিক সমাধানের দাবি
শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ ও বিশেষ বিবেচনায় সময় বাড়িয়ে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। অন্যথায় পুনরায় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৮ জনসহ মোট ৫১ শিক্ষার্থীর একটি পূর্ণ শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির

