১২০ টাকায় পুলিশ হলেন ৪৯ জন; আবেগ আপ্লুত স্বজনরা
কোনো প্রকার উৎকোচ বা তদবির ছাড়ায় মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ৪৯ জন। আর এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ।
রোববার (১৭ মে) রাত ১১ টার দিকে নওগাঁ পুলিশ লাইনের ড্রিল সেডে কনস্টেবল পদে উত্তীর্ণ ওই ১২০জন প্রার্থীদের চুড়ান্ত নাম ঘোষণা করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। আর তালিকা প্রকাশের পরই উত্তীর্ণ ওই সকল প্রার্থী ও তাদের স্বজনরা খুশিতে আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন।
জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে, গত ১৮ এপ্রিল পুলিশ কনস্টেবল পদে যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। যেখানে জেলার আড়াইহাজার তরুন-তরুনী আবেদন করেন। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে গত ৪ মে অনুষ্ঠিত হয় লিখিত পরীক্ষা। রোববার (১৭ মে) সকাল ১০ টায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় এতে ১১৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও সক্ষমতার সাক্ষর রেখে ৪৯ জন নারী-পরুষ প্রার্থী নিয়োগ বোর্ড কতৃক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। এছাড়া ৫ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছন ৪৯ জন। যাদের লাগেনি কোনো বাড়তি উৎকোচ। শোনা হয়নি কারো সুপারিশ। নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক, দিনমজুর, ভ্যানচালক, মৎসজীবী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সন্তানরা। যারা নিয়োগ পেয়েছেন মেধা এবং নিজ নিজ যোগ্যতার ভিত্তিতে। জেলা পুলিশের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা।
চড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়া চাকরি প্রার্থী নওগাঁ সদর উপজেলার আবাদপুকুর গ্রামের বাসিন্দা নাঈম রহমান বলেন, কখনো কল্পনা করতেই পারিনি কোনো তদবির বা উৎকোচ ছাড়াই চাকরি হয়ে যাবে৷ এখন সরকারি চাকরি মানেই সবাই মনে করে মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া সম্ভব না। কিন্তু মাত্র ১২০ টাকায় আবেদন করেই আমি যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেলাম। জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই সুন্দরভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আমি সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা। এবং তারই প্রেক্ষিতে কে কি করে সেটিকে প্রাধন্য না দিয়ে যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা যোগ্য এবং মেধাবী তারাই চুড়ান্ত নিয়োগ পেয়েছেন। সকলকেই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে। এরপর মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তাদের উত্তীর্ণ হতে হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এই ৪৯ জন বাংলাদেশ পুলিশে সততা, নিষ্ঠা এবং নিরেপক্ষতার সাথে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করবে।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/রায়হান

