খুঁজুন
, ,

অবশেষে চালু হচ্ছে পিরোজপুরের ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:৫৩ পিএম
অবশেষে চালু হচ্ছে পিরোজপুরের ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চারটি ফ্লোরে লিফট ছাড়াই কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিরোজপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটি চালু হলে পিরোজপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার লাখো মানুষ উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয় ৫০ শয্যার নতুন ভবন এবং ২০০৫ সালে সেটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাসেবার চাহিদাও বাড়তে থাকে। সেই প্রয়োজন থেকেই ২০১৭ সালে শুরু হয় ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প।

প্রথমে সাততলা ভবন হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও পরে সেটিকে নয়তলা ভবনে উন্নীত করা হয়। ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারিসহ নানা কারণে প্রকল্পের সময়সীমা পিছিয়ে যায়। অবশেষে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটির মূল অবকাঠামোগত কাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয়।

তবে ভবন প্রস্তুত হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ, লিফট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এখনও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্ভব হয়নি।

এদিকে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর হাসপাতালটি এপ্রিল মাসে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফার্নিচার সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংযোগে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় ৩০ জুনের মধ্যে চালুর সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালুর লক্ষ্যে লিফট ছাড়াই হাসপাতালের নিচের চারটি তলা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বছরের অক্টোবর নাগাদ ইতালি থেকে লিফট এসে পৌঁছালে পুরোদমে হাসপাতালটি চালু করা হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

রোগী, তাদের স্বজন এবং সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা, বরিশাল কিংবা ঢাকায় ছুটতে হয়েছে। নতুন হাসপাতালটি চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ সেবা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সুবিধা জেলার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

কাউখালীর বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আমার স্ত্রী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তাররা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। জেলা সদরের হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। পিরোজপুরের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ২৫০ শয্যার নতুন ভবনটি চালু হলে চিকিৎসক, বেড ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করি।

পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামের বাসিন্দা কিডনি রোগী হাজেরা বিবি (৮০) বলেন, ‘মুই হাসপাতালে ভর্তি হইছিলাম চিকিৎসা নিতে। বেড না পাইয়া নিরুপায় হয়ে নিচে বিছানা পাইততা শুইয়া আছি। কেউ কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না। ডাক্তার একবার আইসা বলছে এখানে এই রোগের চিকিৎসা নেই। খুলনা বা বরিশালে যেতে বলছে।’

হার্টের রোগী রশিদ মোল্লা (৭০) বলেন, ‘আমি হার্টের রোগী। গরিব মানুষ, রিকশা চালাইয়া কোনোভাবে চলি। হাসপাতালে এসে ভর্তি হইছি, কিন্তু এখানে হার্টের কোনো চিকিৎসা নেই। খুলনা বা বরিশালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। আড়াইশ শয্যা চালু হলে বড় বড় ডাক্তার আসবে এবং সব ধরনের চিকিৎসা পাওয়া যাবে।’

পিরোজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আসমা খাতুন (২৫) বলেন, ‘আমার ছেলে আনাস আব্দুল্লাহ (৩) কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি কিন্তু বেড পাইনি। শিশুকে নিয়ে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। হাসপাতালের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। পাশাপাশি ডাক্তার ও নার্সের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেু। এছাড়া এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যায় না, বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। নতুন ভবন চালু হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।’

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স দিপা গাইন বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ডে দুই থেকে তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকে। প্রায়ই ৬০ থেকে ৭০ জন রোগীর বিপরীতে সকাল শিফটে চারজন এবং বিকেল ও রাতের শিফটে দুজন করে নার্স কাজ করেন।’

হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. মো. হাসান মশিউর রহমান বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ডে গড়ে ৬০ জন রোগীর বিপরীতে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ জন নার্স ও একজন চিকিৎসক সেবা প্রদান করেন।’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘পিরোজপুর ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালে গড়ে ২৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এ কারণে নানা ধরনের সমস্যা হয়। পাশাপাশি নার্স, চিকিৎসক, আয়াসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকট রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। নতুন ভবন চালু হলে এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ পেলে আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কার্যক্রম প্রায় ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২ শতাংশ কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি। এরপর আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে সক্ষম হব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মূলত বিদ্যুৎ সংযোগ ও কিছু আসবাবপত্রের কাজ বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশা করি ৩০ জুনের মধ্যে আসবাবপত্র চলে আসবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হবে। এছাড়া লিফট আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এসে পৌঁছাবে।’

পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিভিল সার্জনের চাহিদা অনুযায়ী চারতলা পর্যন্ত ভবন বুঝিয়ে দিতে আমরা প্রস্তুত। তবে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায়নি এবং আসবাবপত্র ঢাকায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই চারতলা পর্যন্ত অংশ সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। লিফটের ড্রয়িং ও ডিজাইনের কাজ চলছে। আশা করি অক্টোবরের মধ্যে লিফট দেশে পৌঁছাবে এবং স্থাপন করা হবে।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। লিফটের জন্য অপেক্ষা না করে প্রাথমিকভাবে তিনটি ফ্লোরে স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে চাই। লিফট আগস্ট বা পরবর্তী সময়ে এসে পৌঁছাতে পারে। তবে লিফটের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা শুরু করা হবে। হাসপাতালটি চালু হলে পিরোজপুরবাসীর দুর্ভোগ কমবে এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/লাভলু

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ