খুঁজুন
, ,

নওগাঁর রাণীনগরে অর্থ-সম্পদ তছরুপ, মন্দির কমিটির সভাপতির বিস্ফোরক অভিযোগ

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:১২ পিএম
নওগাঁর রাণীনগরে অর্থ-সম্পদ তছরুপ, মন্দির কমিটির সভাপতির বিস্ফোরক অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল গ্রামের শতবর্ষী শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা ঠাকুরানী মন্দির ও শিব-কালী মন্দিরকে ঘিরে অর্থ আত্মসাৎ, দেবোত্তর সম্পত্তি দখল, জালিয়াতি, নথিপত্র ছিনতাই, অপহরণ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত আবেদন করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার।

বুধবার (২৪ জুন) জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মন্দিরের বিভিন্ন আয় উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দিরের জমি ও পুকুর ইজারা, পূজা উপলক্ষে আয়োজিত মেলার দোকানিদের দেওয়া প্রণামী, বিভিন্ন দান ও অন্যান্য উৎস থেকে মোট ৪১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা আয় হয়। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মেলা থেকে আরও ৫২ হাজার ৮০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে ৪২ লাখ ১ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবাশ চন্দ্র পাল, সাবেক সভাপতি তারিনী পদ সরকার ও সাবেক সভাপতি হরগোবিন্দ প্রামানিককে অভিযোগের মূল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নয়ন চন্দ্র সরকার, নয়ন চন্দ্র সন্যাসী, মিলন চন্দ্র প্রামানিক, শিরিন চন্দ্র প্রামানিক, সুজিত চন্দ্র প্রামানিক, রতন চন্দ্র প্রামানিক, হীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (হিরো), পলাশ চন্দ্র পাল, সুব্রত কুমার প্রামানিক, অমেল চন্দ্র প্রামানিক, উজ্জল চন্দ্র প্রামানিক ও সুজিত চন্দ্র পালসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মন্দিরের অর্থ ও সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পারইল গ্রামের শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা ঠাকুরানী মন্দির, শিব মন্দির ও কালী মন্দির এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু পুরোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। তৎকালীন জমিদার পরিবারের দান করা কয়েক একর দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর এসব মন্দির প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। অতীতে মন্দিরের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি বিক্রি, বন্ধক ও জবরদখলের ঘটনা ঘটেছে। চন্ডিমাতা মন্দিরের প্রায় ৮ দশমিক ৪৫ একর সম্পত্তির একটি বড় অংশ বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। একইভাবে শিব ও কালী মন্দিরের নামে থাকা ৯৭ শতক দেবোত্তর সম্পত্তিও ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একটি অংশ নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলো ভোগদখল করেছেন এবং এ থেকে প্রাপ্ত অর্থেরও কোনো জবাবদিহি করেননি।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মন্দির পরিচালনা নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০০৫ সালে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন কমিটি গঠিত হলেও পূর্ববর্তী কমিটিগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি।

সুভাষ চন্দ্র সরকার অভিযোগ করেন, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা কমিটির নেতারা কখনোই পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেননি। হিসাব চাইতে গেলে সভায় উপস্থিত না হওয়া, নোটিশ গ্রহণে অস্বীকৃতি এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। পূর্বে এ বিষয়ে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের পর কিছু সম্পত্তি উদ্ধার হলেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কোনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। মন্দিরের সম্পত্তি ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুভাষ চন্দ্র সরকার দাবি করেন, ২০২৪ সালে মন্দিরের দেবোত্তর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা হলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বাধা দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয় এবং আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সুভাষ চন্দ্র সরকার বাদিয়ে মামলা করেন। আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গঠিত একটি নতুন কমিটিকে তিনি ‘অবৈধ কমিটি’ দাবি করে সেই কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক মামলা করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, ৫ বছর মেয়াদী ২০২৪ সালের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবৈধ ভাবে ২০২৬ সালে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশে বর্তমান কমিটির এক সদস্যকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগ সূত্র বলছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র তরফদারকে অপহরণ করে সুব্রত প্রামানিকের মাছের হ্যাচারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে কয়েকটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই একই দিন দিবাগত রাতে সুভাষ চন্দ্র সরকারের বাড়িতেও সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে দুষ্কৃতিকারীরা তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে মারপিট করে টাকা, স্বর্ণালংকার ও দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কায় স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের হিসাব নিরীক্ষা, দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, পারইল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

মন্দির পরিচালনায় যথাক্রমে সুভাষ চন্দ্র সরকার ও সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার তরফদার এর কমিটি বহাল থাকা অবস্থায় অবৈধ ভাবে যথাক্রমে সভাপতি সুবাশ পাল ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন কুমার সন্যাসী যোগসাজসে একটি কমিটি গঠন করে। এর পর সুভাষ চন্দ্র সরকার মোকাম নওগাঁর রাণীনগর সিভিল জজ আদালতে সভাপতি সুবাশ পালের কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলমান আছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সভাপতি হরগোবিন্দ প্রামানিক বলেন, প্রতি বছরই হিসাব দেয়া হয়েছে। মন্দিরের জমি বিক্রির সাথে তিনি জড়িত নন। অনেক আগের কমিটির সদস্যরা দেবোত্তর জমি বিক্রি করেছে।

এদিকে সুব্রত প্রামানিক রতন চন্দ্র প্রামানিককে আটক রেখে ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এবিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ নেই। অভিযোগটি ক্ষতিয়ে দেখার পর সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ