খুঁজুন
, ,

রাজউকের জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

জাগো সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
রাজউকের জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪-এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তার অধীনে রাজউকের কয়েকটি জোনাল অফিসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সালেহ আহমেদ জাকারিয়া বর্তমানে রাজউকের মহাখালী জোনাল অফিসে জোন-৪-এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে জোন-৩-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে বলে দাবি সূত্রের। মিরপুর, গুলশান, বনানী ও উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো তার প্রশাসনিক আওতাধীন হওয়ায় ভবনের নকশা অনুমোদন, নির্মাণ তদারকি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ভবনের নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় ফাইল পরিচালকের অনুমোদন ছাড়া অগ্রসর হয় না এবং ‘ম্যানেজমেন্ট ফি’ নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

ইমারত পরিদর্শকদের নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের একটি অংশকে নিয়ে কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নতুন ভবন নির্মাণের সময় পরিদর্শকরা বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে ভবন মালিকদের জোনাল অফিসে পরিচালকের সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ করার পরামর্শ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, কথিত অর্থ দিতে রাজি না হলে ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরিদর্শকদের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ পরিচালকের কাছে পৌঁছানোর অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রশ্ন

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজউকের এক ইমারত পরিদর্শক মো. সোলাইমান হোসেনের বিরুদ্ধে নিজ কক্ষে এক সংবাদকর্মীর ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী থাকার পরও বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া এবং তাদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে রাজউকের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা তৈরি হয়।

অযোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ

প্রশাসনিক পদায়ন নিয়েও সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসএসসি পাস আব্দুর রহিমকে জোন-৩-এর প্রধান ইমারত পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি দায়িত্বে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা না করে কাউকে পদায়ন করা হলে ভবন নির্মাণ তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে অনুগত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোর অভিযোগও রয়েছে।

ভবন মালিকদের হয়রানির অভিযোগ

জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বৈধ ভবন মালিকদের বিভিন্ন অজুহাতে নোটিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো ভবনে সামান্য বিচ্যুতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে উচ্ছেদ বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে দালাল বা অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির অভিযোগও রয়েছে।

বেইলি রোড ও বনানীর অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে রাজউকের পরিদর্শন জোরদার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন

সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার কথিত সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পূর্বাচলে তার প্রায় ২০ কাঠা জমি, মালিবাগে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং টাঙ্গাইলে নিজ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা, পরিমাণ ও অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সালেহ আহমেদ জাকারিয়া সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ফোনকল গ্রহণ না করা, কল কেটে দেওয়া কিংবা অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।

এদিকে তার বিরুদ্ধে রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার জন্য বিশেষ অর্থের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

অভিযোগকারীরা বলছেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভবন নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে থাকা রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তাদের দাবি, জোন-৩ ও জোন-৪-এ সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার দায়িত্ব পালনকালে অনুমোদিত ভবনের নকশা, নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম উচ্চপর্যায়ের অডিটের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, অযোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত এবং রাজউকের অনুমোদন ও তদারকি কার্যক্রম আরও ডিজিটাল করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে প্রশাসনিক কাজে অপ্রয়োজনীয় মানবিক হস্তক্ষেপ কমানোর পাশাপাশি দুর্নীতির সুযোগও সীমিত করা সম্ভব।

সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ