খুঁজুন
, ,

নিয়োগে রোল নম্বর সংযোজন, টেন্ডার বাণিজ্য ও এনওসিতে তথ্য গোপনের অভিযোগ

বিডিসিসিএলে মুরাদ আলমের ‘একচ্ছত্র’ নিয়ন্ত্রণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
বিডিসিসিএলে মুরাদ আলমের ‘একচ্ছত্র’ নিয়ন্ত্রণ

ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নথিপত্রে কারসাজি এবং টেন্ডার বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মুরাদ আলম মনিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন ও প্রকিউরমেন্ট—দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব নিজের হাতে রেখে তিনি প্রতিষ্ঠানে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছেন।

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেননেক্সট টেকনোলজিস লিমিটেডকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ব্যাকডেটে রোল নম্বর সংযোজন, দরপত্রের শর্ত নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে তৈরি এবং পাসপোর্টের অনাপত্তি সনদে (এনওসি) নিজেকে ‘স্থায়ী কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো (কেপিআই) হিসেবে বিবেচিত একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে দেওয়া জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের এক অভিযোগপত্রেও এসব বিষয় তুলে ধরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

বিডিসিসিএলের একটি নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর ‘উপসহকারী প্রকৌশলী (ট্রান্সমিশন)’ পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ অক্টোবর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আতাউর রহমান খানের স্বাক্ষরে প্রকাশিত ফলাফলে সাতজন প্রার্থীকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অফিস আদেশ প্রকাশের প্রায় ১৫ দিন পর বিডিসিসিএলের ওয়েবসাইট থেকে মূল ফাইলটি সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে একই তারিখ বহাল রেখে পরিবর্তিত একটি ফাইল আপলোড করা হয়। নতুন ফাইলে আগের সাতজনের পাশাপাশি ‘SAET-039’ রোল নম্বরের আরও একজন প্রার্থীকে যুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মুরাদ আলম মনিরের স্বাক্ষরে মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। সেখানে ওই নতুন রোল নম্বরসহ মোট আটজনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা ও নথির ব্যাকডেটিং পর্যালোচনায় ফাইল পরিবর্তনের বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে। তবে মুরাদ আলম মনিরের দাবি, রোল নম্বরটি তৎকালীন নিয়োগ কমিটির ভুলে বাদ পড়েছিল এবং পরে কমিটির অনুমোদনেই তা যুক্ত করা হয়।

বিডিসিসিএলের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন ও ক্রয় বিভাগের দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মুরাদ আলম মনির দুটি বিভাগের দায়িত্বে থেকে বিভিন্ন দরপত্রের যোগ্যতা ও কারিগরি শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করেন, যাতে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ পড়ে এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়।

জেনেক্স টেকনোলজি, স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিংস লিমিটেড ও টেকভ্যালি নেটওয়ার্ক লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ডাটা সেন্টারের ক্লাউড সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত ইওআই প্রক্রিয়াতেও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই না হলেও, একই কর্মকর্তার হাতে প্রশাসন ও প্রকিউরমেন্টের দায়িত্ব থাকা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমের স্বামী তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জেননেক্সট টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি মেঘনা ক্লাউড পার্টনার হিসেবে বিডিসিসিএলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে একজন ভারতীয় নাগরিক থাকার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কেপিআইভুক্ত একটি সংবেদনশীল তথ্য অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততা ও প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মুরাদ আলম মনিরের বিরুদ্ধে পাসপোর্টের এনওসিতে তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগও রয়েছে।

২০২৪ সালের ৩ জুন টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পরিচালকের কাছে পাঠানো এনওসিতে তাকে ‘স্থায়ী কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়োগপত্র অনুযায়ী ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার চাকরি স্থায়ীকরণ-সংক্রান্ত বোর্ড সিদ্ধান্ত আসে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।

অভিযোগকারীদের দাবি, স্থায়ীকরণের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগে নিজেকে স্থায়ী কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে এনওসি নেওয়ার বিষয়টি সরকারি নথি যাচাই করে তদন্ত করা প্রয়োজন।

অবশ্য মুরাদ আলম মনিরের বক্তব্য, তিনি যে পদে চাকরি করেন সেটি স্থায়ী পদ হওয়ায় ওই অর্থে এনওসিতে তাকে স্থায়ী কর্মকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিচয় বদলে বিভিন্ন মহলে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন মুরাদ আলম মনির। অতীতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার এবং সরকার পরিবর্তনের পর ছাত্রশিবির বা বিএনপির সমর্থক পরিচয়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দাবি করে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. মুরাদ আলম মনির। তিনি বলেন, ‘আমি সৎভাবে আমার দায়িত্ব পালন করছি। এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’

জেননেক্সট টেকনোলজিসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। কিছুদিন আগে আমাকে এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে।’ প্রতিষ্ঠানটির বোর্ডে থাকা ভারতীয় নাগরিকের তথ্যও তার কাছে নেই বলে জানান তিনি।

নিয়োগ পরীক্ষার ফল পরিবর্তন ও ‘SAET-039’ রোল নম্বর সংযোজনের অভিযোগের বিষয়ে মুরাদ আলম মনির বলেন, ‘আমি এখানে কিছুই করিনি। তৎকালীন নিয়োগ কমিটি প্রথম চিঠিতে SAET-039 রোলটি ভুলক্রমে তালিকায় লিপিবদ্ধ করেনি। পরে নিয়োগ কমিটির অনুমোদনক্রমেই ওই রোল নম্বর বসানো হয়।’

এনওসিতে নিজেকে স্থায়ী কর্মকর্তা উল্লেখের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যে পদে চাকরি করি, সেই পদটি স্থায়ী। সেই অর্থেই এখানে স্থায়ী দেখানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিডিসিসিএলের মতো কেপিআইভুক্ত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, ক্রয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু অভ্যন্তরীণ তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের পক্ষ থেকে মুরাদ আলম মনিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত এবং তদন্ত চলাকালে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নির্ধারণের একমাত্র পথ হলো সংশ্লিষ্ট নিয়োগ নথি, ডিজিটাল ফাইলের মেটাডাটা, টেন্ডার প্রক্রিয়া, এনওসি এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের নথি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বিডিসিসিএলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ