খুঁজুন
, ,

লাখাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা জিয়া কলেজ রোডের বেহাল দশা: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

মো. তারেক মিয়া, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
লাখাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা জিয়া কলেজ রোডের বেহাল দশা: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

​হবিগঞ্জ লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে লাখাই উপজেলার বামৈ অবস্হিত লাখাই মুক্তিযোদ্ধা জিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষদের ।

রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দেখা গেছে জমি থেকে মাটি বিক্রির অসংখ্য ট্রাক্টরের চলাচলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পাচ্ছে না বৃষ্টি হলে রাস্তায় কাদা পানি লেগে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামৈ রোড থেকে কলেজ পর্যন্ত সংযোগকারী এই সড়কটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও পথচারী চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এবং মাটিবাহী ট্রাক্টরের অবাধ বিচরণে সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি জুড়ে হাঁটুসমান কাদা জমে যায়, যা চলাচলের ক্ষেত্রে মরণফাঁদে পরিণত হয়। এর ফলে প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে না পেরে বিঘ্নিত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও।

​এ বিষয়ে লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সম্মানিত অধ্যাপক মোহাম্মদ হামজা মাহমুদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, মাঠ থেকে মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচলই এই রাস্তাটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মূল কারণ। বর্ষার মৌসুমে ট্রাক্টরের ভারী চাকার পিষ্টে রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা ও গর্তের সৃষ্টি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে ট্রাক্টর চলাচলের ঘর্ষণে অবশিষ্ট পাকা রাস্তাও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় এবং রাস্তায় জমে থাকা মাটি শুকিয়ে প্রচুর ধুলা ও বালির সৃষ্টি হয়, যা চলাচলের পরিবেশকে চরম বিষিয়ে তোলে। এর দ্রুত প্রতিকার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

​এদিকে, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের এই ক্ষোভ ও দাবির বিষয়ে বামৈ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফুরুখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

​সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে লাখাই উপজেলা প্রকৌশলী অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে বিষয়টি জাতীয় সংসদ এর হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ মহোদয়ের সু দৃষ্টি কামনা করছে এলাকা বাসী।

ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত, দুইজন আহত

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Monday, 2 November, 2026, 10:07 pm
ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত, দুইজন আহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার(২ নভেম্বর) রাত সাতটার দিকে ঢাকা- ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা পৌরসভার ইন্টার সেকশন মোড়ের খুলনামুখী সড়কে ।নিহতরা হলেন ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা পৌরসভার হাজরাহাটি মহল্লার দুলাল কাজীর ছেলে ইজাজুল কাজী (২০) এবং পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার জিয়াকুলি গ্রামের শাহাদাত সরদারের ছেলে স্বাধীন সরদার (২০)।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক জিনিয়া আক্তার জানান , সন্ধ্যার পরে দুইটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে এদের মধ্যে ইজাজুল কাজী ও স্বাধীন সরদারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে রাজন (২১) এবং ইয়ামিন (২৮) নামে গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) তৌহিদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোমবার রাত ৭ টার দিকে ভাঙ্গা ইন্টার সেকশন মোড়ের খুলনামুখী সড়কে দুইটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/বিপ্লব 

রায়পুরে এক রাতেই নিঃস্ব সিফাত, চার মাসেও মেলেনি চার হত্যার রহস্য

আরিফ হোসেন রুদ্র, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Monday, 2 November, 2026, 10:05 pm
রায়পুরে এক রাতেই নিঃস্ব সিফাত, চার মাসেও মেলেনি চার হত্যার রহস্য

‘বিচার তো অনেক দূরের কথা, চার মাস পার হয়ে গেল; এখনো জানতে পারলাম না, আমার মা ও তিন বোনকে কেন হত্যা করা হলো।’ বুকভরা কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জুনায়েদ ইসলাম ওরফে সিফাত (১৮)। এক রাতেই মা ও তিন বোনকে হারিয়ে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে এখন অনেকটাই নিঃসঙ্গ তাঁর জীবন।

গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সিফাতের মা শাহিনুর বেগম (৪০) এবং তিন বোন সাইমা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ওরফে ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার ওরফে সিফা (১০)। ওই ঘটনার পর পুরো পরিবারে বেঁচে আছেন শুধু সিফাত।

স্বজনদের হারানোর পর পাশের একটি বাসায় থাকছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে এলাকার একটি রড-সিমেন্টের দোকানে কাজ নিয়েছেন। দিনের বেশির ভাগ সময় কর্মস্থলে কাটলেও রাতে বাসায় ফিরলে মা ও বোনদের স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। তাঁদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো মনে করে এখনো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

সিফাতের আক্ষেপ, হত্যাকাণ্ডের চার মাস পেরিয়ে গেলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পারেননি তিনি। তাঁর প্রশ্ন, কী কারণে তাঁর মা ও তিন বোনকে এভাবে হত্যা করা হলো? অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল? ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ওই বাসায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চারজনকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন অন্তর মজুমদার (২৮) নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।

ঘটনার পরদিন ধানহাটা এলাকায় জানাজা শেষে নিহত চারজনের মরদেহ কুমিল্লার হোমনায় তাঁদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি হত্যা মামলা করে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমঘটিত বিরোধ, অর্থ লেনদেন, স্বর্ণালংকার লুট কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কিছু স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে শুধু লুটপাটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না পুলিশ। তবে পরিবারের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন বাসায় পাওয়া যায়নি। পরে অন্তরকে গণপিটুনি দেওয়ার স্থান থেকে ফোন দুটি উদ্ধার করা হয়। সেগুলো তিনি বাসা থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তর মজুমদারের আগে নিয়মিত মুঠোফোনে যোগাযোগ ছিল কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। তবে নিয়মিত যোগাযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দুটি মামলার তদন্ত করছেন রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি বিষয় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

চার মাস আগে এক রাতেই মা ও তিন বোনকে হারিয়েছেন সিফাত। স্বজনদের স্মৃতি নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন তিনি। দিনের বেলায় জীবিকার তাগিদে কাজ করলেও রাতের নীরবতায় ফিরে আসে হারানো স্বজনদের স্মৃতি। তাঁর অপেক্ষা—কেন এই হত্যাকাণ্ড, কারা জড়িত ছিলেন এবং এর পেছনের প্রকৃত রহস্য কী? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে, অপরাধের বিচার হবে—এ আশাতেই দিন কাটছে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য সিফাতের।

লাখাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে, আহত ৩

মো. তারেক মিয়া, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Monday, 2 November, 2026, 9:11 pm
লাখাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে, আহত ৩

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মালবাহী পিকআপ সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেছে। এতে পিকআপে থাকা তিনজন আহত হয়েছেন।

​সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার মোড়াকরি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি মালবাহী পিকআপ দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় মোড়াকরি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় পিকআপটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা তিনজন আহত হন।

​দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

​স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই সড়কটিতে যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ব্রেকিং নিউজ