খুঁজুন
, ,

লাখাইয়ের ৪নং বামৈ ইউনিয়নে বেহাল সড়ক, চরম ভোগান্তিতে ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা

মো. তারেক মিয়া, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ পিএম
লাখাইয়ের ৪নং বামৈ ইউনিয়নে বেহাল সড়ক, চরম ভোগান্তিতে ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা

হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার ৪নং বামৈ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের গ্রাম ও গ্রামীণ সড়কগুলোর করুণ অবস্থা যেন দেখার কেউ নেই। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও সংস্কারহীন পড়ে থাকা এসব সড়ক এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের ক্ষেত্রে বড় আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হাজী কালন মিয়া বাড়ি থেকে শুরু করে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা চরমে পৌঁছেছে, যা প্রতিদিনের সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে একদম অচল করে তুলেছে।

​একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটির চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তা সাধারণ মানুষের জন্য যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়। কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে পুরো রাস্তাটি পথচারী ও যানবাহন চলাচলের একদম অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। রাস্তার জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি এসব গর্তে জমে থাকায় রাস্তার গভীরতা ও গর্তের অবস্থান বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ফলে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গর্তের কারণে যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং নিয়মিত হেলেদুলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালকদের চলাচল করতে হচ্ছে।

​সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে জরুরি চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে। সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে জরুরি প্রয়োজনে কোনো ধরণের যানবাহন, এমনকি জীবন রক্ষাকারী অ্যাম্বুলেন্সও গ্রামে বা এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না। এতে বিশেষ করে প্রসূতি ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো ও চিকিৎসা সেবা পাওয়া চরম দুরূহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রোগীদেরকে খাটিয়া কিংবা কোলে করে মূল সড়কে নিয়ে যেতে হয়, যা অনেক সময় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

​এমন দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে দিনাতিপাত করা এলাকার স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা মোঃ মনিরুল ইসলাম, মোঃ বাইজিদ মিয়া, মোঃ সাদ্দাম মিয়া, মনিরুল ইসলাম আলমগীর এবং তোফাজ্জল মিয়াসহ আরও অনেকেই চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা ও যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে তারা অতি দ্রুত সড়কটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও একাধিকবার কল করায় তিনি ফোন রিসিভ না করায় উনার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​অন্যদিকে, সড়কটির বেহাল দশা এবং স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে লাখাই উপজেলার ৪নং বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফুরুক জানান, সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে অবগত আছেন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে জানিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় বাজেট ও সরকারি বরাদ্দ অনুমোদন পাওয়া যাবে। বরাদ্দ পাওয়ামাত্রই জনদুর্ভোগ লাঘবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত, দুইজন আহত

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Monday, 2 November, 2026, 10:07 pm
ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত, দুইজন আহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার(২ নভেম্বর) রাত সাতটার দিকে ঢাকা- ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা পৌরসভার ইন্টার সেকশন মোড়ের খুলনামুখী সড়কে ।নিহতরা হলেন ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা পৌরসভার হাজরাহাটি মহল্লার দুলাল কাজীর ছেলে ইজাজুল কাজী (২০) এবং পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার জিয়াকুলি গ্রামের শাহাদাত সরদারের ছেলে স্বাধীন সরদার (২০)।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক জিনিয়া আক্তার জানান , সন্ধ্যার পরে দুইটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে এদের মধ্যে ইজাজুল কাজী ও স্বাধীন সরদারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে রাজন (২১) এবং ইয়ামিন (২৮) নামে গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) তৌহিদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোমবার রাত ৭ টার দিকে ভাঙ্গা ইন্টার সেকশন মোড়ের খুলনামুখী সড়কে দুইটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/বিপ্লব 

রায়পুরে এক রাতেই নিঃস্ব সিফাত, চার মাসেও মেলেনি চার হত্যার রহস্য

আরিফ হোসেন রুদ্র, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Monday, 2 November, 2026, 10:05 pm
রায়পুরে এক রাতেই নিঃস্ব সিফাত, চার মাসেও মেলেনি চার হত্যার রহস্য

‘বিচার তো অনেক দূরের কথা, চার মাস পার হয়ে গেল; এখনো জানতে পারলাম না, আমার মা ও তিন বোনকে কেন হত্যা করা হলো।’ বুকভরা কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জুনায়েদ ইসলাম ওরফে সিফাত (১৮)। এক রাতেই মা ও তিন বোনকে হারিয়ে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে এখন অনেকটাই নিঃসঙ্গ তাঁর জীবন।

গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সিফাতের মা শাহিনুর বেগম (৪০) এবং তিন বোন সাইমা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ওরফে ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার ওরফে সিফা (১০)। ওই ঘটনার পর পুরো পরিবারে বেঁচে আছেন শুধু সিফাত।

স্বজনদের হারানোর পর পাশের একটি বাসায় থাকছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে এলাকার একটি রড-সিমেন্টের দোকানে কাজ নিয়েছেন। দিনের বেশির ভাগ সময় কর্মস্থলে কাটলেও রাতে বাসায় ফিরলে মা ও বোনদের স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। তাঁদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো মনে করে এখনো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

সিফাতের আক্ষেপ, হত্যাকাণ্ডের চার মাস পেরিয়ে গেলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পারেননি তিনি। তাঁর প্রশ্ন, কী কারণে তাঁর মা ও তিন বোনকে এভাবে হত্যা করা হলো? অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল? ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ওই বাসায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চারজনকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন অন্তর মজুমদার (২৮) নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।

ঘটনার পরদিন ধানহাটা এলাকায় জানাজা শেষে নিহত চারজনের মরদেহ কুমিল্লার হোমনায় তাঁদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি হত্যা মামলা করে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমঘটিত বিরোধ, অর্থ লেনদেন, স্বর্ণালংকার লুট কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কিছু স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে শুধু লুটপাটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না পুলিশ। তবে পরিবারের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন বাসায় পাওয়া যায়নি। পরে অন্তরকে গণপিটুনি দেওয়ার স্থান থেকে ফোন দুটি উদ্ধার করা হয়। সেগুলো তিনি বাসা থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তর মজুমদারের আগে নিয়মিত মুঠোফোনে যোগাযোগ ছিল কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। তবে নিয়মিত যোগাযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দুটি মামলার তদন্ত করছেন রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি বিষয় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

চার মাস আগে এক রাতেই মা ও তিন বোনকে হারিয়েছেন সিফাত। স্বজনদের স্মৃতি নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন তিনি। দিনের বেলায় জীবিকার তাগিদে কাজ করলেও রাতের নীরবতায় ফিরে আসে হারানো স্বজনদের স্মৃতি। তাঁর অপেক্ষা—কেন এই হত্যাকাণ্ড, কারা জড়িত ছিলেন এবং এর পেছনের প্রকৃত রহস্য কী? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে, অপরাধের বিচার হবে—এ আশাতেই দিন কাটছে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য সিফাতের।

লাখাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে, আহত ৩

মো. তারেক মিয়া, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Monday, 2 November, 2026, 9:11 pm
লাখাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে, আহত ৩

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মালবাহী পিকআপ সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেছে। এতে পিকআপে থাকা তিনজন আহত হয়েছেন।

​সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার মোড়াকরি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি মালবাহী পিকআপ দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় মোড়াকরি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় পিকআপটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা তিনজন আহত হন।

​দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

​স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই সড়কটিতে যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ব্রেকিং নিউজ