খুঁজুন
, ,

শিক্ষা প্রকৌশলের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ে অর্থ লেনদেন, নেপথ্যে কী?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
শিক্ষা প্রকৌশলের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ে অর্থ লেনদেন, নেপথ্যে কী?

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতের অফিসকক্ষে অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশের পর শিক্ষা প্রশাসনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়; এটি ২০২২ সালের ২৬ মে ধারণ করা।

তখন হাসান শওকত ছিলেন ঢাকা মেট্রো সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী। ভিডিওতে তাকে একটি অফিসকক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। তার সামনে থাকা দুই ব্যক্তির মধ্যে অর্থ লেনদেনের দৃশ্যও দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দুই ব্যক্তি দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের দাবি, লেনদেনটি কোনো কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার জন্য ছিল না; বরং একটি সরকারি নির্মাণকাজ হস্তান্তর এবং পারফরম্যান্স গ্যারান্টির অর্থ পরিশোধের অংশ হিসেবে ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত সরকারি বাঙলা কলেজের একটি ভবন নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে। দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার কাজটি পেয়েছিল ঢালী কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। নিয়ম অনুযায়ী, কাজটির চুক্তিমূল্যের ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৪ লাখ টাকা পারফরম্যান্স গ্যারান্টি হিসেবে জমা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

পরবর্তীতে ঢালী কনস্ট্রাকশন ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে এবং প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষণা করায় কাজটি আটকে যায়। পরে কাজটি শেষ করার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো সার্কেল। এ সময় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে মিরন এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বাকি কাজ শেষ করার বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, কাজ হস্তান্তরের সময় ঢালী কনস্ট্রাকশন তাদের জমা দেওয়া পারফরম্যান্স গ্যারান্টির অর্থ ফেরত চায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে পারফরম্যান্স গ্যারান্টির প্রায় ২৪ লাখ টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা ঢালী কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধির হাতে দেওয়া হয়।

মিরন এন্টারপ্রাইজের মালিক রাকিব হোসেন মিরনের দাবি, ভবিষ্যতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষ যেন অস্বীকার করতে না পারে, সে জন্য অর্থ হস্তান্তরের সময় ভিডিও ধারণ করা হয়। তার ভাষ্য, ভিডিওটি গোপনে নয়, প্রকাশ্যেই ধারণ করা হয়েছিল।

ঢালী কনস্ট্রাকশনের পরিচালক ফিরোজ আহমেদও টাকা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা পারফরম্যান্স গ্যারান্টির টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। তাই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গ্রহণ করা হয়।

তবে ভিডিওতে উপস্থিত কর্মকর্তা হাসান শওকত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, টাকা দিয়েছেন এক ঠিকাদারি পক্ষ এবং নিয়েছে অন্য ঠিকাদারি পক্ষ। তিনি সেখানে শুধু সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

হাসান শওকত বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছে এবং কাজ হস্তান্তর হয়েছে। পারফরম্যান্স গ্যারান্টির টাকা তারাই একে অপরকে দিয়েছে। তাকে ঘুষ নেওয়ার সঙ্গে জড়ানো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার দাবি, তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক পয়সাও নেননি।

তবে এখানেই শেষ নয়। সরকারি অফিসকক্ষে ঠিকাদারি দুই পক্ষের মধ্যে এভাবে অর্থ হস্তান্তর এবং সরকারি নির্মাণকাজ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে শেষ করার প্রক্রিয়া বিধিসম্মত ছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। এ বিষয়ে হাসান শওকতের বক্তব্য, বিভিন্ন প্রকল্পে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজ শেষ করার ঘটনা ঘটে। এ ক্ষেত্রে আইন বা বিধির ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই।

অন্যদিকে, হাসান শওকতের দায়িত্বকাল নিয়ে শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের বিল নিয়েও অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ করা হয়, আটতলা ভবনের কাজ হলেও ১০তলা ভবনের বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

তবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নথিপত্র পর্যালোচনায় এর ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। নথি অনুযায়ী, ভবনটির ১০তলা পর্যন্ত ভিত্তি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু কেপিআইভুক্ত এলাকা এবং বঙ্গভবনের নিরাপত্তাজনিত কারণে পরে ভবনটি আটতলা পর্যন্ত নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রকল্পটির মূল দরপত্র মূল্য ছিল ২২ কোটি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫০ টাকা। পরে সংশোধিত প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৯ কোটি ৪৯ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫০ টাকা। আটতলা ভবনের কাজ শেষে ঠিকাদার ১৭ কোটি ৮৪ লাখ ১২ হাজার টাকার ১৫তম চলতি ও চূড়ান্ত বিল জমা দেন।

নিরীক্ষার পর প্রথম থেকে ১৪তম বিল বাবদ ১৭ কোটি ২৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। চূড়ান্ত বিল থেকে ৮৫ হাজার টাকা স্থগিত রাখা হয়। নথি অনুযায়ী, নবম ও দশমতলার কাজের জন্য কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি।

এ ছাড়া হাসান শওকত নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে ঠিকাদারদের অগ্রিম বিল পরিশোধে সহযোগিতা করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগের সঙ্গে মিলছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একটি নথি। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর ঢাকা মেট্রো সার্কেল থেকে অধীন কর্মকর্তাদের ঠিকাদারদের অগ্রিম বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান শওকতের স্বাক্ষর রয়েছে।

সব মিলিয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ২০২২ সালের ঘটনার বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। ভিডিওতে অর্থ লেনদেনের দৃশ্য সত্য হলেও অর্থটি ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল—এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। বরং সংশ্লিষ্ট দুই ঠিকাদারি পক্ষই এটিকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টির অর্থ পরিশোধ হিসেবে দাবি করেছে। অন্যদিকে সরকারি কার্যালয়ে এ ধরনের অর্থ হস্তান্তর এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সরকারি কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া বিধিসম্মত ছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

এখন তদন্তেই পরিষ্কার হবে, ২০২২ সালের ওই ভিডিওতে দেখা অর্থ লেনদেন কেবল দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারফরম্যান্স গ্যারান্টির অর্থ হস্তান্তর ছিল, নাকি এর সঙ্গে সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা প্রকল্পের অনিয়মের যোগসূত্র ছিল।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:02 pm
পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (ইচঋ) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর হোসাফ টাওয়ারস্থ রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজ রে¯েত্মারাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতি- বিশিষ্ট লেখক ও কৃষি গবেষক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল আহমেদেও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এস কে রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক লিডারশীপ এওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মো. মফিজুল ইসলাম। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মো¯ত্মফা, সিজিএ কার্যালয়ের ডিসিজিএ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা ডিভিশনের সাবেক ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মো. আমির হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ডিসিএও শামছুল করিম, দৈনিক নাগরিক কণ্ঠের সম্পাদক আব্দুল মা’বুদ জীবন, বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাহতুল ইসলাম জিন্নাহ, দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, দৈনিক ঘোষণার সহ-সম্পাদক ও আšত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. শাফিউর রহমান কাজী, সমাজ বিশ্লেষক মো. সানোয়ার হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমজাদুল হক খান, সিজিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবিদ আহমেদ, সিজিডিএফ কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন, কবি এম আর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার বা¯ত্মবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরম্নরি। একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান আলোচক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা প্রফেসর ড. মো¯ত্মফা দুলাল বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য। তরম্নণ প্রজন্মকে মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেশাজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণের বিষয় নয়; এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বা¯ত্মবতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী পে-স্কেল প্রণয়ন এবং পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি–২০২৬ পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও বই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক সৌখিন ছাদবাগানীদের মাঝে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। নগর কৃষি ও ছাদবাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজ বিশ্লেষক, কৃষি উদ্যোক্তা, ছাদবাগানি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:21 pm
চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে কারখানা—বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নে চারদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে উঠেছে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির কারখানা। মাতাজি বটতলী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে স্থাপিত এ কারখানায় উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ কুড়িয়ে এনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা কারখানায় এনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চারদিকে কৃষিজমি আর তার মাঝখানে এমন একটি শিল্পকারখানা—তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এলো না কেন, এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত কারখানাটি পরিদর্শন করেছে কি না, করে থাকলে কী পেয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি এখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো—কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এসব খাবার বাজারজাতের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাননিয়ন্ত্রণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ মাছের খাবারের মানের সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন, চাষিদের আর্থিক ক্ষতি এবং ভোক্তার স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে অন্য কেউ যদি এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে নিয়ে বাজারজাত করে থাকেন, তাহলে সে কার্যক্রমের অনুমোদন, উৎপাদনের দায় এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল? আর চারদিকে কৃষিজমি থাকা একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারখানাটির ভেতরের কার্যক্রম ভিডিও ধারণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে তাঁর মাধ্যমে মালিকপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে কারখানার অভ্যন্তরের কিছু দৃশ্য সীমিতভাবে ধারণ করা হয়, যা প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

একদিকে চারদিকে কৃষিজমি, মাঝখানে শিল্পকারখানা; অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ ও পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, মাছের খাবারের উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাইগা ইউনিয়নের আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।

এখন প্রশ্ন—কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের বিষয়, উৎপাদন কার্যক্রম, কারা সেখানে মাছের খাবার তৈরি করছেন, উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে—সবকিছু কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হবে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

মোঃ আরাফাত আলী
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 4:19 pm
মাদকের হটস্পটে পুলিশের হানা; নারী বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

নওগাঁয় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে নারী বিক্রেতাসহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) রাতে মাদকের হটস্পট হিসেবে খ্যাত শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ দুই ঘন্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুইপার কলোনী এলাকার মৃত জীবনের মেয়ে শ্রী মুনি (৪০), শহরের খাস নওগাঁ এলাকার সামছুল হকের ছেলে শাওন (৪২) ও পৌরসভার বাগবাড়ি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত সুবেদ আলীর ছেলে মানিক (৩৮)। এবং শহরের পাটালির মোড় শাহি মসজিদ এলাকার শাহিনের ছেলে রাকিব (১৯), হাট নওগাঁ এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সান্টুর ছেলে আবির হোসেন (১৯), কুমাই গাড়ি এলাকার রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২), সদর উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সিয়াম (১৯), আত্রাই উপজেলার বড় সাওতা গ্রামের মৃত আক্কাসের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুর বড় মোকাম বাজার এলাকার মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (৩২)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের সময় জানতে পারি শহরের নুনিয়াপট্টি ও সুইপার কলোনিতে মাদক কেনা বেচা ও সেবন হচ্ছে। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রী মুনি নামে এক নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ছোট তিনটি পলি প্যাকে ৩০০করে এবং একটি  ছোট পলি প্যাকে ২৭০ টি মোট ১১৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মাদক বিক্রেতা মানিক ও শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একই সময় মাদক সেবন এবং পাবলিক নুইসেন্স সৃষ্টিকারীর জন্য অপর ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের এই দুই জায়গার এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপরও যদি তারা সাবধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের অভিযান চালানো হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আর গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/আর

ব্রেকিং নিউজ